সর্বশেষ খবর
LATEST NEWS
📰জাকসু নির্বাচন: ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা
সম্পূর্ণ নিউজ
নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ, ঢাকা-১৯ (সাভার) এ বড় পরিবর্তন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ৩০০ আসনে ছোট খাটো পরিবর্তনের প্রস্তাব করে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
৪২টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিল কারিগরি কমিটি, তবে এর মধ্যে ৩৯টি আসনে সীমানা সামান্য পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এছাড়া ২৫০ আসনের বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি আবেদন না আসায় বিদ্যমান সীমানাই বহাল রাখা হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় আসনভিত্তিক সীমানা পুননির্ধারণের প্রাথমিক তালিকা বিষয়ে ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়নকে পৃথক করে ঢাকা-১৯ আসনের পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে ঢাকা-২ আসনে।
ফলে এই নতুন সীমানা পুননির্ধারণের পর ঢাকা-১৯ আসনে এখন থাকছে সাভার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, পাথালিয়া ও সাভার সদর ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা এবং সাভার সেনানিবাস এলাকা।
ঢাকা-২ আসনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাভার উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন-বিরুলিয়া, বনগাঁও ও ঢাকা-১৪ আসনের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন। এছাড়া সাভারের তেঁতুলঝোড়া, ভার্কুতা, আমিনবাজার ইউনিয়ন আগের মতোই ঢাকা-২ আসনের সঙ্গে রয়েছে।
এই পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিরুলিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ঢাকা-২ আসনের ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে ঢাকা-১৯ আসন থেকে দুটি ইউনিয়ন বাদ পড়ায় সেখানে নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পরিবর্তন সাভার কেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট ২০২৫, রবিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দারা প্রাথমিক তালিকা নিয়ে লিখিত দাবী, আপত্তি বা সুপারিশ জমা দিতে পারবেন। মতামত পাঁচ কপিতে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আপত্তি গ্রহণ করা হবে না।
লিখিত মতামত গ্রহণের পর কমিশন শুনানি ও পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। তারপর নতুন সীমানা অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি প্রকাশিত বিজ্ঞপিতে আরও বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এর দফা (১) এর উপ-দফা (গ) এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১ এর ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১)(খ) অনুযায়ী জাতীয় সংসদ-সদস্যের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এলাকা ভিত্তিক নির্বাচনি এলাকাসমূহের সীমানা উপরোক্ত আইনের ধারা ৬ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং জনসংখ্যার বাস্তব বিভাজনকে যতদূর সম্ভব বিবেচনায় রেখে প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে ধারা ৬ এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এতদসংগে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করছে এবং তালিকাটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দাদের নিকট হইতে লিখিত দাবী/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত আহবান করছে।’
সীমানা পুনঃনির্ধারণে নিম্মোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছেঃ পার্বত্য এলাকার ৩ (তিন) জেলার ৩টি আসন অপরিবর্তনীয় রাখা। ২ আসন বিশিষ্ট জেলার আসন সংখ্যা অপরিবর্তীত রাখা। কারণ ভোটার/জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বৃদ্ধি করলে অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস (জেলাভিত্তিক ভোটারের জাতীয় গড়ের তুলনায়) পায়। আবার ২টি আসন-কে ১টি আসনে হ্রাস করলে ভোটার সংখ্যা গড়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়।
তিন আসন বিশিষ্ট জেলার আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা। আসন হাস/বৃদ্ধিতে ভোটার/জনসংখ্যার অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে। যেসকল আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য কোন আবেদন দাখিল হয়নি সে আসনগুলো অপরিবর্তীত রাখা।
প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার গণ্য করে উপজেলা/থানা ইউনিটকে যতদূর সম্ভব অখণ্ড রাখা। জেলার মধ্যকার আসনের ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ব্যবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। যতদূর সম্ভব, প্রশাসনিক ও নির্বাচনি সুব্যবস্থার বিষয় বিবেচনায় রেখে উপজেলা, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের অখন্ডতা বজায় রাখা। ইউনিয়ন, সিটি কপোরেশনের ওয়ার্ড ও পৌরসভার একাধিক সংসদীয় আসনের মধ্যে বিভাজন না করা।
সিটি কর্পোরেশন এলাকার জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা, প্রশাসনিক পরিধি বিবেচনায় নির্বাচনি এলাকা পুনঃবিন্যাস করা। যতদূর সম্ভব, সীমানা পুনঃনির্ধারণকালে সংশ্লিষ্ট জনগণের সেবা বিষয়ক সুবিধা/অসুবিধার বিষয় বিবেচনা করা।
যতদূর সম্ভব, ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য (যথা-নদী) ও যোগাযোগ ব্যবস্থা (যথা-রাস্তাঘাট) তথা জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধা ও অসুবিধা বিবেচনা করা; এবং যেসকল প্রশাসনিক এলাকা নতুন সৃষ্টি হয়েছে বা সম্প্রসারণ হয়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত/কর্তন করা এবং পরিবর্তিত নাম সংশোধন করা।
কোন সংক্ষুদ্ধ বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগামী ২৬ শ্রাবণ ১৪৩২ / ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে কোন আসনের পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনি এলাকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর তার লিখিত দাবী/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত পেশ করতে পারবেন। তবে দাবী/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত কোন আসনের সীমানা সংক্রান্ত হতে হবে এবং দাবী/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত সংক্রান্ত দরখাস্ত ৫(পাঁচ) প্রস্থ দাখিল করিতে হইবে। নির্ধারিত তারিখের পর কোন দাবী/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত সংক্রান্ত দরখাস্ত গ্রহণ করা হবে না।
এর আগে বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের জানান, সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুননির্ধারণের খসড়া নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। এ সময় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, ৪২ টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে কারিগরি কমিটি। এর মধ্যে ৩৯ টি আসনে সীমানা সামান্য পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এছাড়া আড়াইশ’ আসনের বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি আবেদন না আসায় বিদ্যমান সীমানাই বহাল রাখা হয়েছে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘কারিগরি কমিটি সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে যে জেলায় সেই জেলায় একটি আসন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন এবং সর্বনিম্ন ভোটার যে জেলায় সেই জেলায় একটি আসন কমানোর প্রস্তাব করেছেন। সেই আলোকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। টেকনিক্যাল কমিটির তথ্যানুযায়ী, সর্বোচ্চ ভোটার হচ্ছে গাজীপুরে। আর বাগেরহাট জেলায় সবচেয়ে কম। মানে বিশেষায়িত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তারা ভোটার সংখ্যা এবং জনসংখ্যা অ্যানালাইসিস করে প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাব হচ্ছে বাগেরহাটে একটি আসন কমবে, গাজীপুরে জনসংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে একটি আসন বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ৬৪ জেলার গড় ভোটার নির্ধারণ করেছি ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। গাজীপুরে একটি আসন বাড়ালে এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমালে সমতা চলে আসে। বাকিগুলোয় আসন কমবেশি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। দুই জেলার আসনই ‘অ্যাফেক্টেড’ হয়েছে। আর কোথাও ঝামেলা নেই। প্রায় ৩৯ থেকে ৪২টি আসনে এডজাস্টমেন্ট রয়েছে।’
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে খসড়া গেজেট বুধবারই (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত দাবি-আপত্তি গ্রহণ করা হবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। পরে আসন ভিত্তিক শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপত্তি কম থাকলে দ্রুতই চূড়ান্ত হবে সীমানা নির্ধারণ।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ৩৯টি আসনে ছোট-বড় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো- পঞ্চগড় -১ ও ২। রংপুর- ৩। সিরাজগঞ্জ -১ ও ২। সাতক্ষীরা-৩ ও ৪। শরিয়তপুর- ২ ও ৩। ঢাকা ২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯। গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬। নারায়ণগঞ্জ ৩, ৪ ও ৫। সিলেট- ১ ও ৩। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ও ৩। কুমিল্লা ১, ২, ১০ ও ১১। নোয়াখালী ১, ২, ৪ ও ৫। চট্টগ্রাম ৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট ২ ও ৩।
নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের এখতিয়ার ইসির। এই ধারাবাহিকতায় ইসি একটি কমিটি গঠন করে। পরবর্তী সময় সীমানা নির্ধারণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ জুলাই সীমানা নির্ধারণে ভূগোলবিদ, নগরবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ৯ সদস্যের বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী টিম ৬৪ জেলার ৩০০ আসনের সীমানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে।
আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আদমশুমারিকে গুরুত্ব দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ইসির কাছে।
কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশনের সিস্টেস ম্যানেজার মো. রফিকুল হক বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে প্রতিবেদন দিয়েছি। সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী আমরা বিদ্যমান ৩০০টি সংসদীয় আসনের জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যাসহ সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে আগের সীমানা যাচাই-বাছাই করেছি এবং কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছি।’
কমিটির সদস্য সচিব হলেন- সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-১) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।
অন্য সদস্যরা হলেন-মো. মোস্তাফিজুর রহমান (ভূগোলবিদ), কে এইচ রাজিমুল করিম (মানচিত্রকর), মোশিউর রহমান রিমু (তথ্য-প্রযুক্তিবিদ), ফারহানা আহমেদ (নগর পরিকল্পনাবিদ) ও হিফজুর রহমান (পরিসংখ্যানবিদ)।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১২টি আসনে পরিবর্তন: সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ৩৮টি আসনে দাবি-আপত্তির আবেদন এলেও, ১০-১২টি আসনের বিষয়ে যুক্তিতর্ক ও বিশ্লেষণই বেশি আমলে নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এক ডজন আসনে সামান্য পরিবর্তন এনে গেজেট হয় ২০২৩ সালের ৩ জুন।
একাদশে ২৫টিতে: একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালে খসড়া প্রকাশ করে দাবি-আপত্তি ও নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল তিনশ আসনের গেজেট হয়। পরে খসড়ায় ৪০ আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করে; পরে ২৫টি আসনে ছোটোখাটো পরিবর্তন আনা হয়।
দশমে অর্ধশত আসনে: দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৮৭টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করে ইসি। এ খসড়া প্রস্তাবের ওপর দাবি-আপত্তি শুনানি শেষ হয় এপ্রিলে। পরে সব বিষয় পর্যালোচনা করে ৫০টি আসনে ছোটোখাটো পরিবর্তন করে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নবম সংসদে শতাধিক আসনে পরিবর্তন : ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ওই বছর নবম সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৩৩ আসনে সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব করে ইসি। সে সময় আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যার আনুপাতিক হার মেনে আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে জিআইএস পদ্ধতি অনুসরণ করে শতাধিক সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আনে।
১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ মোটামুটি একই পদ্ধতিতে হয়।
২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণে জনসংখ্যার ঘনত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।
নবম সংসদ নির্বাচনের সময়, কোনো জেলার আসনসংখ্যা দুটির কম হবে না, পার্বত্য তিন জেলায় একটি করে এবং ও ক্ষুদ্র জেলা মেহেরপুরে দুইটি আসন বরাদ্দ রাখা হয়। ঢাকায় ১৩টি থেকে আসন হয় ২০টি।
১৯৮৪ ও ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। দুই বছরের সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যাপক সংস্কার আনা হয় নির্বাচনী সব আইনে।
এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পরামর্শে এবারই সীমানা নির্ধারণে বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসিতে জনগণের তরফ থেকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের আবেদন আসতে থাকে। আসন পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে ইসির কাছে যেসব আবেদন জমা পড়ছে তার বেশির ভাগ আবেদনে ২০০১ সালের সীমানায় ফেরার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগকে বাড়তি সুবিধা দিতে কম-বেশি দেড় শ আসনে হাত দেয় তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। এক উপজেলার অংশ কেটে যেমন অন্য আসনের সঙ্গে যোগ করা হয়, তেমনি বিএনপির ভোট বেশি এমন কিছু আসন কার্যত বিলুপ্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, কাজের সুবিধার্থে ইতিমধ্যে ২০০১, ২০০৮, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে কোন আসনে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, তার তুলনামূলক বিবরণী তৈরি করা হয়েছে। যাতে কখন, কোন আসনে, কী ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে, তা বোঝা যায়।
২০০৮ সালের আগে ঢাকার দোহার উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২ আসন ছিল। ২০০৮ সালে দুটি আসন মিলিয়ে একটি করা হয়েছে। ইসিতে আসা এক আবেদনে আসন দুটি পুনর্বহালের দাবি করা হয়েছে। এ দাবি জানিয়ে ইসিতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি এবং দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার পৃথক সংসদীয় আসন (ঢাকা-১ ও ২) পুনরুদ্ধার কমিটির পক্ষ থেকে ২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।
ইসিতে এ বিষয়ে আবেদন জমা দেওয়া ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে দোহার ও নবাবগঞ্জ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে আলাদা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে দুটি আলাদা আসন ছিল। যেহেতু দুটি আসনই বিএনপির ছিল, তাই ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতে দুই উপজেলাকে মিলিয়ে একটি আসন করা হয়। তাই ২০০১ বা তার আগে আমাদের আসন যেমন ছিল, তেমনটি ফেরত চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি।’
তিনি বলেন, ‘৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা নিয়ে দোহার উপজেলা এবং ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা গঠিত। দুটি আসন এখন একটিতে পরিণত হওয়ায় দুই উপজেলায় সরকারি বরাদ্দ কমেছে। এ ছাড়া একজন সংসদ সদস্যের পক্ষে এত বিস্তৃত এলাকার সব অধিবাসীকে যথাযথভাবে সেবা দেওয়াও সম্ভব নয়।’
সীমানা পুনর্নির্ধারণ চেয়ে ইসিতে আবেদন জমা দেওয়া ঢাকার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজী জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘২০০৮ সালে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার নতুনভাবে তৈরি করা ঢাকা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অথচ আমরা বরাবর প্রশাসনিকভাবে সাভার উপজেলার মধ্যে। উপজেলা পরিষদ, থানা এবং সব প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনও সাভার উপজেলায় করতে হয়। তাই তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার—এই তিনটি ইউনিয়ন ঢাকা-২ আসন থেকে বাদ দিয়ে আগের মতো সাভার আসনে যুক্ত করা হোক।
২০০৮ সালের আগে ঢাকায় ১৭টি সংসদীয় আসন ছিল। পরে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি করা হয়। ইসি সূত্র জানায়, এ কারণে কয়েকটি জেলার আসন কমেছে।
গত ২ জুলাই সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচনী সীমানা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘গেল ১৫ বছরে বহু সংসদীয় আসনকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে, কিছু ব্যক্তিকে নির্বাচনে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য। আওয়ামী লীগের সময় এমন বহু পরিবর্তন করা হয়েছে। আবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনেকেই আপিল করেছিলেন।’
২০০৮ সালের নির্বাচনে সাংবিধানিক আইন অমান্য করে বড় রকমের সীমানা পরিবর্তন করেছিল তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা। প্রায় ১৩০ আসনের অধিক। পরবর্তীতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কে এম নূরুল হুদা এবং কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনও একইভাবে টুকটাক আসন পরিবর্তন করেছে। পরিবর্তিত এসব আসন জামাত ও বিএনপির অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল।
অভিযোগ এই সীমানা পুনর্নির্ধারণে আওয়ামী লীগকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারণে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ২৩০টি আসন নিয়ে জয়লাভ করে।
সাভার
সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে হাত বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার
সাভার
সাভারে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
সাভার
সাভারে অপহৃত ১০ মাস বয়সী শিশু আদাবরে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার
সাভার
সাভার জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে তিনটি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পূর্ণ সরকারি খরচে
সাভার
সাভারে নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু
সাভার
সাভারে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
সাভার
সাভারের সরকারি হাসপাতালে চরম অব্যবস্থাপনা
সাভার
সাভারে ডিবি পরিচয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকে ডাকাতির অভিযোগ
সাভার
চিনিকলে কোটি টাকার মালামাল ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতা সাভার থেকে গ্রেফতার
সাভার
সাভারে দুই চিকিৎসকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা