১৫ মার্চ, ২০২৬

১৫ মার্চ, ২০২৬

২৬ রমজান, ১৪৪৭ যুগ

রবিবার

Shilpo Bangla Logo
FacebookYouTubeTelegram

সর্বশেষ খবর

LATEST NEWS

📰আমরা সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী: জামায়াত আমির

সম্পূর্ণ নিউজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন

জবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন

ক্যাম্পাসশিল্পবাংলা ডেস্ক |প্রকাশ: ৬ আগস্ট, ২০২৫ এ ০৪:০৯ PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপিত হয়েছে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪”-এর প্রথম বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্থিরচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ এবং দোয়া ও শোকরানা মাহফিল।

 

বুধবার (৬ আগসট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

 


মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় স্থির চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, পিএইচডি। প্রদর্শনীতে জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ছবি, জবি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দৃশ্য, আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি এবং তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদন স্থান পায়।

 


এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা মোছা. নাজমা খাতুন লিপি আনুষ্ঠানিকভাবে সভার উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং শহীদ সাজিদের পিতার সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। সেইসাথে তিনি সন্তান হারানোর বিচারও দাবি করেন।

 


আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, পিএইচডি বলেন, 'জুলাই আন্দোলন কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া তাৎক্ষণিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি দীর্ঘদিনের নানা প্রকার বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধের ফল। এই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবজনক, শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর সাহসিকতা আমাদের চিরকাল অনুপ্রেরণা জোগাবে।'

 

May be an image of 5 people, television, dais and text

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও স্থবিরতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যে দরকার ছিল, জুলাই অভ্যুত্থান সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব—এই বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। স্বৈরাচারমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এগিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই।'

 


আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জুলাই বিপ্লব বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররাফ হোসেন।


অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন বক্তব্যে বলেন,' সেদিনের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ছিল চরমভাবে বিঘ্নিত। দেশে ছিল না বাকস্বাধীনতা, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে কার্টুনিস্ট, ফটোসাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের উপর ফ্যাসিবাদী সরকারের অব্যাহত নিপীড়ন ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। সেই দমননীতির ছায়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেও পড়েছিল। এখানে যারা সেই ফ্যাসিস্ট শক্তির সহযোগী হিসেবে নির্যাতন ও দমন-পীড়নে অংশ নিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক গণপ্রতিরোধের প্রতীক। এই আন্দোলনের গৌরবজনক ইতিহাসকে যেন কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে কিংবা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে নিজের সুবিধা আদায়ে ব্যবহারের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।'

 


বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থান ছিল একাধিক ঘটনার সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া, যা অবশেষে একটি সফল গণআন্দোলনে পরিণত হয়। এই আন্দোলনের পেছনে কাদের অবদান কতটুকু—তা নির্ধারণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ফসল। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বৈষম্যমূলক নীতিই এই অভ্যুত্থানের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তারা যদি বৈষম্য ও নিপীড়নের পথ বেছে না নিত, তাহলে এমন একটি বিপ্লবের প্রয়োজন হতো না।'

 

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সুস্থ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাহলেই এই বিপ্লবের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জাতিকে এমন অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয়, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবশ্যই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'

 


শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররাফ হোসেন বলেন, 'কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে বৈষম্য বিরোধী সকল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়। শহীদ ও আহতদের পরিবার যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদা ও সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।'

 


অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আইরিন জাহান (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ), দ্বিতীয় স্থান পান সমাজকর্ম বিভাগের হুমায়রা সাদাফ (২০২১-২২) এবং তৃতীয় হন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শামসুন নাহার দিসা (২০২৩-২৪)।

 


১৭তম আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় গণিত বিভাগ এবং রানারআপ হয় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন গণিত বিভাগের মুনিব মুসান্না। এছাড়া জেএনইউডিএস ডিবেট প্রিমিয়ার লীগ ২০২৫-এ চ্যাম্পিয়ন হয় ডিএইচপি সেভেনটি ওয়ান দল এবং রানারআপ হয় রিথোরিক রাইন দল। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হন মাইনুল ইসলাম অমি।

 

May be an image of ‎5 people, dais and ‎text that says '‎তাজपার بتة मचारन्ीन 동 উনই আমার जिथ জুলাই বিষার গনঅভাখালই জাতীয় বিতরক উৎসর পূরস্কার বিতরণী সমাপনী অনুষ্ঠান আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় আন্ত: -কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রধান অতিখি: অধ্যাপক রেজাউিল করিম, दिविकि ASfEIg, জুললাই জুলাহ গণত ভু थান ২০২৪ الاادرا পূর্তি বিশেঘ অতিথি: অধ্যাপক সাবিনা শরম্নীন সভাপতি জনার তানভির আহমদ ግጥብ স্বাগতত बড়া: অধ্যাপক साजवडंस मधक মোঃ রইজ উদুদীন মুতাম্মদ নুকল্লাহ সঅবवহ "" 推 মাঃ মামূন খন্দকার (উন-সচিম্য gertvef রাথ বিশ্ববিদ্যালয় আগঞ ২০২৫ o রোলা ন্রশাসন, ঢাব Ο জপন্নাথ বিস্ববিদ্ঞাল, ঢकা আয়োোজনেঃ জেলা নরিষদ, जकা অনিন্াসিটি ঠিবেচিয় সোসাইটি マーあカエ大 0製食究‎'‎‎

 


জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ এবং তাদের উত্থাপিত দাবিসমূহের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষক, যারা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, অনুষ্ঠানে তাদের সকলের পরিচয় সামনে তুলে ধরা হয়। তাদের এই সাহসী ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

 


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 


আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

May be an image of one or more people and text

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়জবিজুলাই গণঅভ্যুত্থানজুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিজুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসস্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পূর্তি৫ আগস্টক্যাম্পাসস্থিরচিত্র প্রদর্শনীআলোচনা সভাপুরস্কার বিতরণশোকরানা মাহফিল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন | দৈনিক শিল্পবাংলা