সাঈদীর মামলার সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর স্মরণে জাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন
শিল্পবাংলা ডেস্ক | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দুর্বার আদি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কেন নিজের জন্মভূমিতে দাফনের ক্ষেত্রেও বাধার মুখোমুখি হতে হবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ সময় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সোমা ডুমরী বলেন, মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তির মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া তাঁর মর্যাদা ও অধিকারের পরিপন্থী। প্রয়াত এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মোমবাতি প্রজ্বালনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মৃত্যুর পর দাফন ঘিরে উত্তেজনা
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান এবং নিজ গ্রামে দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক তাঁর মরদেহ দাফন এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা দেন। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও আপত্তি জানানো হয়।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মানিক পশারীর ভূমিকা
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পিরোজপুর থানায় মামলা করেছিলেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়।
সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী হিসেবেও তিনি ভূমিকা পালন করেন।
মৃত্যুর পর তাঁর দাফন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং এ নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো।
শিক্ষার্থীদের এই মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রবীণ যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁর মরদেহ দাফন ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদও প্রকাশ পেয়েছে।




