মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

৫ কার্তিক, ১৪৩৩◆১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
logo
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

স্বাস্থ্য

হামে মৃত্যু সংখ্যা প্রায় ১০০

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৯:৪৩ PM
হামে মৃত্যু সংখ্যা প্রায় ১০০

হামে মৃত্যু সংখ্যা প্রায় ১০০

“

দেশে গত এক মাসে হাম ও এর উপসর্গে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

দেশে গত এক মাসে হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেছে ১৯৮ শিশুর। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ শিশুর, আর উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১। হামের এমন প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার পেছনে স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা বলছেন, হামের প্রকোপ শুরুর পরপরই তা নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্তদের মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে হতো। রোগটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদারের দরকার ছিল। বিস্তৃত টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল চিকিৎসকদের আলাদা প্রশিক্ষণে ব্যবস্থা করা। তবে সবক্ষেত্রেই ঘাটতি দেখা গেছে।

দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয় গত মার্চে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতালে হাম অথবা এর উপসর্গ নিয়ে শিশুদের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম অথবা উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে ৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সরকারি প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশু এবং উপসর্গে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জনের, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩২ জন।

আর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত হাম শনাক্ত হওয়া ৩২ জন এবং ১৬৬ জন উপসর্গ গিয়ে মারা গেছে। অর্থাৎ, ১৫ মার্চ থেকে এক মাসে প্রাণ গেছে ১৯৮ জনের।

এদিকে, হামের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় গত ৫ এপ্রিল দেশের কয়েকটি এলাকার ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। তবে এখনও সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা না গেলে এ কর্মসূচি কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে না।

এজন্য টিকা দেওয়ার প্রচার জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, এবার হামের যে প্রকোপ দেখা দিয়েছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শুরুর (১৯৭৯ সাল) পর থেকে এমন দেখা যায়নি। আপৎকালীন পরিকল্পনা করে সরকারকে এগোতে হতো। টিকা দেওয়া শুরু হলেও প্রচার দেখা যাচ্ছে না। সব শিশুকে টিকার আওতায় না আনা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, যখন হামের প্রকোপ শুরু হলো, তাৎক্ষণিকভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ এবং যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের মৃত্যু যেন না হয় বা সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে হতো। একজনের মাধ্যমে অন্যরা যেন আক্রান্ত না হয়, সেজন্য আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করতে হতো। এতগুলো মৃত্যু যেহেতু হয়ে গেল, তার মানে ব্যবস্থাপনাটা যথাযথ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নিশ্চয়ই আছে। এমন পরিস্থিতিতেও ন্যাশনাল গাইডলাইন বা চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। যে যার মতো অভিজ্ঞতা দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফলে যারা বেশি অভিজ্ঞ তারা ভালো চিকিৎসা দিচ্ছেন, অন্যরা তেমনটি পারছে কিনা সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকে যাচ্ছে।

সর্বশেষ খবর

আরও দেখুন
ধর্মীয় অনুভূতি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে কেন আজও প্রাসঙ্গিক লালনের মানবদর্শন?
1

ধর্মীয় অনুভূতি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে কেন আজও প্রাসঙ্গিক লালনের মানবদর্শন?

বিশেষ ফিচার | দৈনিক শিল্পবাংলা ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ: বৈষম্য, যুদ্ধ ও জনসেবার সংকটে রাস্তায় মানুষ
2

বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ: বৈষম্য, যুদ্ধ ও জনসেবার সংকটে রাস্তায় মানুষ

বিশ্বসংবাদ | দৈনিক শিল্পবাংলা | ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য
3

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য

১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী সভায় তাঁর সভাপতিত্ব করার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণায় এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। প্রশান্তকুমার পালের রবিজীবনী এবং রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্রের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে ১৯১২ সালের ২৪ মার্চ তিনি কলকাতা ছেড়ে শিলাইদহে যান। ২৮ মার্চ শিলাইদহ থেকে জগদানন্দ রায়কে লেখা তাঁর চিঠির তথ্যও পাওয়া যায়।