দৈনিক শিল্পবাংলা লোগো
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে 'মার্কিন ছাড়'-সংক্রান্ত খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৮:৩৪ AM
রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে 'মার্কিন ছাড়'-সংক্রান্ত খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে 'মার্কিন ছাড়'-সংক্রান্ত খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের ছাড়ের খবরকে ভিত্তিহীন বলেছে জ্বালানি বিভাগ; এ বিষয়ে কোনো সরকারি তথ্য বা অনুমোদন নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের ছাড় দিয়েছে—এমন প্রচারিত খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিভাগটি বলেছে, এ ধরনের সংবাদ তাদের অনুমোদিত কোনো তথ্য, নিশ্চিতকরণ বা মন্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৭ এপ্রিল বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় বাংলাদেশের জন্য রাশিয়ান জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৬০ দিনের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা তাদের নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিভাগের কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা কোনো গণমাধ্যমকে তথ্য দেননি।

বিভাগটি আরও জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত কথিত ৬০ দিনের ছাড় অথবা রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কেও তারা কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমকে কোনো তথ্য দেয়নি। একই সঙ্গে রাশিয়ান জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড়, কিংবা বাংলাদেশ কর্তৃক ১০ লাখ টন ডিজেল কেনার কোনো প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো সরকারি, হালনাগাদ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

এই স্পষ্টীকরণ এমন এক সময়ে এলো, যখন তার আগের দিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন ৬০ দিনের ছাড় পেয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।

তবে নতুন অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট জ্বালানি দপ্তর অন্তত এখন পর্যন্ত এমন কোনো ছাড়ের বিষয়ে নিজেদের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য থাকার কথা স্বীকার করছে না। ফলে জ্বালানি আমদানিকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই আলোচনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে—আসলেই কি কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক অগ্রগতি হয়েছিল, নাকি তা ছিল আগাম বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর দাঁড়ানো প্রচার।

এদিকে এর আগে ১ এপ্রিল সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে। অর্থাৎ, ‘ছাড় পাওয়া গেছে’—এমন দাবির আগে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ছাড় চাওয়া হয়েছে’—এই অবস্থানটিই প্রকাশ্যে এসেছিল। নতুন ব্যাখ্যা সেই পার্থক্যটিকেই আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক মূল্যচাপ এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ বিকল্প উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি আমদানির পথ খুঁজছে—এ কথা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কিন্তু সর্বশেষ সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের ছাড় পাওয়ার খবরকে এখন আর নিশ্চিত বা সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগ এটিকে অনুমোদনহীন ও ভিত্তিহীন তথ্যপ্রচার বলেই চিহ্নিত করেছে।

সব মিলিয়ে নতুন এই ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে, জ্বালানি আমদানি নিয়ে সরকারি অবস্থান, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং জনসমক্ষে আসা তথ্য—এই তিনের মধ্যে ব্যবধান থাকলে তা বাজার, নীতি-আলোচনা এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ফলে রাশিয়ান জ্বালানি, মার্কিন ছাড় এবং বাংলাদেশের আমদানি পরিকল্পনা নিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চূড়ান্ত সরকারি অবস্থান কোনটি, এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে কখন ও কীভাবে জানানো হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর

আরও দেখুন
জ্বালানি আমদানিতে বাধার কারণ মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি –ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
1

জ্বালানি আমদানিতে বাধার কারণ মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি –ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর জোর দেন।

কারণে অকারণে দীর্ঘসময় ওয়াকআউট করলে জনগণ অধিকার হারাবে: স্পিকার
2

কারণে অকারণে দীর্ঘসময় ওয়াকআউট করলে জনগণ অধিকার হারাবে: স্পিকার

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলকে অযথা সংসদ ওয়াকআউট না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারি দলকে সমঝোতার মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম সচল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

অকটেনের দাম বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫
3

অকটেনের দাম বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দামে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।