দৈনিক শিল্পবাংলা লোগো
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

বিনোদন

মারা গেছেন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
১২ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৫:৫৬ PM
মারা গেছেন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে

মারা গেছেন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে

ভারতীয় সংগীতজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে মারা গেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলের জীবনাবসান: সুরের আকাশে নিভল আরও এক নক্ষত্র

ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী। বুকে সংক্রমণ, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাঁকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে শনিবার রাতে তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

শোকস্তব্ধ পরিবার ও খবর নিশ্চিতকরণ

রোববার দুপুরে তাঁর ছেলে আনন্দ ভোসলে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষমাণ সংবাদমাধ্যমের কাছে বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি জানান, কিংবদন্তি এই শিল্পী আজ তাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন।

শেষকৃত্য ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে জনসাধারণ ও ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ বাসভবনে রাখা হবে। এরপর সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী শিবাজি পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই কিংবদন্তি শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, তাঁর বড় বোন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্যও এই শিবাজি পার্কেই সম্পন্ন হয়েছিল।

আট দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও স্বীকৃতি

আশা ভোসলের মৃত্যুতে ভারতীয় সংগীতে একটি সুদীর্ঘ এবং বর্ণিল যুগের অবসান ঘটল। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শ্রোতাদের মোহময় কণ্ঠে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে গজল, ভজন, পপ, রোমান্টিক এবং ক্যাবারে—সব ধরনের গানেই তিনি ছিলেন সমান স্বাচ্ছন্দ্য ও পারদর্শী। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবির মাধ্যমে প্লেব্যাক শুরু করা এই শিল্পী হিন্দি ছাড়াও বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ বিভিন্ন ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি 'দাদাসাহেব ফালকে' এবং ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মবিভূষণ' খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ডিং করা শিল্পী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে।

সর্বত্র শোকের ছায়া

তাঁর এই প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে বলিউডে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বহু রাজনৈতিক নেতা, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এবং সহশিল্পীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগণিত ভক্ত এই 'সুরের জাদুকর'-এর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়