শুল্ক যুদ্ধে মেতেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেখানে যেন টার্গেটে পরিনত করেছে কিছু দেশকে। যে তালিকায় এতদিন আলোচনায় ছিল ভারতের নাম। এবার ভারতের চেয়ে ৪ গুণ বেশি শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিলো চীনকে। কিন্তু প্রশ্ন হল, হঠাত করেই এত নাখোশ হওয়ার কারণ কী? এ নিয়ে বেশ কিছু কারণ দেখিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
কিছুদিন আগেই ভারতকে কোণঠাসা করতে ৫০ শতাংশ চড়া শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার কারণ হিসেবে দেখিয়েছে রাশিয়া থেকে তেল কিনে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করছে ভারত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে চীনমুখী হচ্ছে ভারত। ইতোমধ্যেই নয়াদিল্লিতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মোদির বৈঠক হয়েছে। এই সম্পর্ককে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে তারা। চুপ থাকলে আরও শক্তিশালী হবে যুক্তরাষ্ট্র।
এরই মধ্যে এবার চীনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি ম্যাগনেট দিতে হবে, না হলে চীনের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে। তথ্য সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার।
প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে বৈশ্বিক ম্যাগনেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনের দখলে। আর দুর্লভ এই খনিজ উপাদান নিয়ে বেইজিং অত্যন্ত সংবেদনশীল। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন বেশ কিছু দুর্লভ খনিজ ও ম্যাগনেট রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
চলতি মাসের শুরুতে বিরোধ কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও নতুন হুমকি পরিস্থিতিকে আবার জটিল করছে। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প সরকার চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছে, যাতে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। এ আদেশ না হলে শুল্কের হার পৌঁছে যেত ১৪৫ শতাংশে।
এর আগে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সমঝোতায় এসেছিল, শুল্ক হার ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। হঠাত করেই পালটে গেল প্রেক্ষাপট। এর কারন কি শুধুই ম্যাগনেট নাকি কোণঠাসা করার নতুন কৌশল?