সম্পূর্ণ নিউজ

পাখির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে জাকসুর উদ্যোগে জাবির মনপুরা লেকের সংস্কার কাজ শুরু
পাখির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে জাকসুর উদ্যোগে জাবির মনপুরা লেকের সংস্কার কাজ শুরু
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনপুরা লেকে অতিথি পাখির আগমন ও নির্বিঘ্ন বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পাখি–প্রেমিক ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থী ও পরিবেশ–বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সংস্কারকাজ শুরু
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে মনপুরা লেক ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ভেকু মেশিনের সাহায্যে পাড় ও তলদেশ পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়—
লেকে রাখা হয়েছে টোপাপানা, যাতে পাখিরা সহজে বিশ্রাম নিতে পারে। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে মাঁচা ও কাঠের বসার জায়গা, যা শীতের সময় অতিথি পাখিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে মনপুরা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার জন্য নয়, বরং পাখির রাজধানী নামেও পরিচিত। প্রতিবছর শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া ও হিমালয়ের উত্তরাংশ থেকে শত শত প্রজাতির অতিথি পাখি এখানে আশ্রয় নেয়।
বিশেষ করে মনপুরা লেক ও পাখির ঝিল অঞ্চলটি পরিযায়ী পাখিদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গাগুলোর একটি।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেকের তলদেশ ভরাট, বর্জ্য জমা, এবং বহিরাগতদের আড্ডায় শব্দদূষণের কারণে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জাকসুর সংস্কার উদ্যোগ: পরিবেশ রক্ষার প্রয়াস
জাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
লেক পরিষ্কারের পাশাপাশি পাড়ে গাছ লাগানো ও পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে তা পাখির উপযোগী রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি, পাখির মৌসুমে উচ্চশব্দের সাউন্ডবক্স ব্যবহার না করার অনুরোধও জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি।
এছাড়া, মনপুরা এলাকায় বহিরাগতদের অযথা আড্ডা ও নৌকা চালানো নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা শাখার নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
সংস্কার কার্যক্রমে নেতৃত্বে তরুণ প্রতিনিধিরা
সংস্কার কাজ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন—
জাকসুর সহ–সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা,
পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক মোঃ সাফায়েত মীর,
কার্যকরী সদস্য ফাবলিহা জাহান,
এবং মওলানা ভাসানী হলের এজিএস রাকিব হাসান।
সংস্কার শেষে জাকসুর পরিবেশ সম্পাদক সাফায়েত মীর বলেন—
“অতিথি পাখির আগমনের আগেই মনপুরা লেককে তাদের উপযোগী করে তুলতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
আমরা চাই, পাখিরা যেন নির্বিঘ্নে এখানে বিচরণ করতে পারে এবং জাহাঙ্গীরনগরের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ধারা অটুট থাকে।”
শিক্ষার্থীদের পরিবেশ–চেতনা ও টেকসই উদ্যোগের দৃষ্টান্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ টেকসই পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
এ ধরনের প্রকল্প কেবল অতিথি পাখির জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি–নির্ভর চেতনা গঠনে ভূমিকা রাখে।
জাহাঙ্গীরনগরের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে—
“প্রকৃতি রক্ষায় শুধু সরকারি নীতিমালাই নয়, সক্রিয় শিক্ষার্থী সমাজও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনপুরা লেক শুধু একটি জলাশয় নয়—এটি প্রকৃতি, পাখি ও মানুষ–সহাবস্থানের এক জীবন্ত প্রতীক।
জাকসুর এই উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে রক্ষা করা যায়, তবে মনপুরা আবারও হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের পাখির নিরাপদ স্বর্গরাজ্য।

পাখির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে জাকসুর উদ্যোগে জাবির মনপুরা লেকের সংস্কার কাজ শুরু
৬ নভে
নিজস্ব পরিবেশ-প্রতিবেশ বিবেচনায় গবেষণায় মনোনিবেশের আহ্বান জাবি উপাচার্যের
২০ অক্টো
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ, বাংলাদেশ থেকে যে সময় দেখা যাবে
৭ সেপ
অস্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়েছে সুন্দরবন
২৬ জুল
সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যেতে নতুন নিয়ম
১৩ জুল.jpg&w=3840&q=75)
