১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

২৩ শা‘বান, ১৪৪৭ যুগ

বুধবার

Shilpo Bangla Logo
FacebookYouTubeTelegram

ব্রেকিং নিউজ

BREAKING NEWS

📰আগামীকাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৬০ গাড়ি প্রস্তুত

সম্পূর্ণ নিউজ

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মারপ্যাঁচে ঝুঁকির মুখে দেশের শিল্প ও সার্বভৌমত্ব!

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মারপ্যাঁচে ঝুঁকির মুখে দেশের শিল্প ও সার্বভৌমত্ব!

আন্তর্জাতিকশিল্পবাংলা ডেস্ক |প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:৫৩ PM
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মারপ্যাঁচে ঝুঁকির মুখে দেশের শিল্প ও সার্বভৌমত্ব!
 
 
 
 
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (Agreement on Reciprocal Trade) নিয়ে দেশের শিল্প মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তির প্রতিটি অনুচ্ছেদে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প, পোশাক খাত এবং জাতীয় তথ্য নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হতে পারে।
ঔষধ শিল্প: অস্তিত্ব সংকটে জেনেরিক মডেল
​চুক্তির অনুচ্ছেদ ২.৬ (মেধাস্বত্ব) এবং ২.২ (কারিগরি মান) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের শক্তিশালী জেনেরিক ঔষধ খাত বড় ধরনের হুমকির মুখে। মার্কিন পেটেন্ট আইনের কড়াকড়িতে স্থানীয় ল্যাবরেটরিগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
​মূল্যবৃদ্ধি: চুক্তির কারণে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম ১০ থেকে ৪০ গুণ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
​প্যারাসিটামল ফ্যাক্টর: এমনকি ২ টাকার প্যারাসিটামলের দামও কাঁচামাল আমদানির শর্ত (অনুচ্ছেদ ২.৩) এবং অডিট ফি’র কারণে ৮-১০ গুণ বাড়তে পারে।
 
​পোশাক শিল্প ও শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ
​চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫.৩ অনুযায়ী, মার্কিন তুলা বা সুতা ব্যবহারের শর্তে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে উৎপাদন খরচ ২০-৩০% বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া শ্রম আইনের (২.৯) কঠোর প্রয়োগ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রভাবে প্রায় ১০ লক্ষ পোশাক শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
 
​তথ্য ও সাইবার সার্বভৌমত্ব
​চুক্তির অনুচ্ছেদ ৩.২ অনুযায়ী, তথ্যের অবাধ স্থানান্তরের শর্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের এনআইডি, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য মার্কিন সার্ভারে সংরক্ষিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ৩.১ অনুযায়ী গুগল বা ফেসবুকের মতো জায়ান্টদের ওপর ডিজিটাল ট্যাক্স বসানো যাবে না, যা রাষ্ট্রের বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হবে।
 
​সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি
​বাণিজ্যিক এই চুক্তির আড়ালে অনুচ্ছেদ ৪.১ এবং ৪.৩ বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে সীমিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকে তা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে, যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় চলা প্রকল্পগুলোকে গভীর সংকটে ফেলবে।
 
​অর্থনৈতিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি
​চুক্তির সামগ্রিক প্রভাবে দেশীয় বাজারে উচ্চমাত্রার মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাত বিশেষ করে জামদানি বা স্থানীয় পনিরের মতো জিআই (GI) পণ্যগুলো মার্কিন কর্পোরেট ব্র্যান্ডের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় পড়বে। প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বাজার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
দৈনিক_শিল্পবাংলাUS_BangladeshTradeDealNationalSecurityTradeAgreement
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মারপ্যাঁচে ঝুঁকির মুখে দেশের শিল্প ও সার্বভৌমত্ব! | দৈনিক শিল্পবাংলা