বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৯ আশ্বিন, ১৪৩৩◆১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
logo
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

বিনোদন

এমবাপ্পে-ঝড়ে ফ্রান্সের জয়, সেনেগালকে হারিয়ে ইতিহাসে ফরাসি অধিনায়ক

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
১৭ জুন, ২০২৬ এ ৫:৪২ AM
এমবাপ্পে-ঝড়ে ফ্রান্সের জয়, সেনেগালকে হারিয়ে ইতিহাসে ফরাসি অধিনায়ক

এমবাপ্পে-ঝড়ে ফ্রান্সের জয়, সেনেগালকে হারিয়ে ইতিহাসে ফরাসি অধিনায়ক

“

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে সেনেগালকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের জয়ের নায়ক হন অধিনায়ক এমবাপ্পে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৮ গোল নিয়ে অলিভিয়ের জিরুকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

এমবাপ্পে-ঝড়ে ফ্রান্সের জয়, সেনেগালকে হারিয়ে ইতিহাসে ফরাসি অধিনায়ক

স্পোর্টস ডেস্ক, দৈনিক শিল্পবাংলা

১৭ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে সেনেগালকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের জয়ের নায়ক হন অধিনায়ক এমবাপ্পে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৮ গোল নিয়ে অলিভিয়ের জিরুকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

ম্যাচের স্কোরলাইন শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের আধিপত্যের কথা বললেও শুরুটা সহজ ছিল না দিদিয়ের দেশমের দলের জন্য। প্রথমার্ধে সেনেগাল শক্ত শরীরী ফুটবল, দ্রুত প্রেসিং এবং সরাসরি আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসি রক্ষণকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে। নিকোলাস জ্যাকসন ও ইসমাইলা সার সুযোগ তৈরি করলেও ফ্রান্সের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে গোল হজম করেনি। অন্যদিকে, ফ্রান্স বল দখলে রাখলেও আক্রমণের শেষ পাসে ধার কম ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের গতি। মাঝমাঠে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ বাড়ে, মাইকেল ওলিসে ও এমবাপ্পের সমন্বয়ে আক্রমণে গতি আসে। ৬৬ মিনিটে ওলিসের দারুণ পাস ধরে সেনেগালের রক্ষণ ভেঙে ম্যাচের প্রথম গোল করেন এমবাপ্পে। এই গোলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে তিনি জিরুর রেকর্ড স্পর্শ করেন, পরে আরেক গোল করে সেটি ছাড়িয়ে যান।

গোলের পর ম্যাচে ফ্রান্স আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। সেনেগাল সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও রক্ষণে ফাঁক তৈরি হতে থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বদলি হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বারকোলা ফ্রান্সের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। আদ্রিয়েন রাবিওর পাস থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে বারকোলা ম্যাচ কার্যত ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে এনে দেন।

তবে সেনেগাল শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। যোগ করা সময়ে ইব্রাহিম এমবায়ে গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু সেনেগালের সেই প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই দূরপাল্লার দারুণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। তাতেই ৩–১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

এই জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল দাঁড়াল ১৪। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে। সামনে আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ১৫ গোল নিয়ে এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজে ১৬ গোল নিয়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে এমবাপ্পের এই অবস্থান তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রেকর্ডগুলোর একটির খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

ফ্রান্সের জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, বরং টুর্নামেন্টে শক্ত বার্তারও। প্রথমার্ধে চাপ সামলে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছে তারা। এমবাপ্পে, ওলিসে, বারকোলা ও রাবিওর সমন্বয় ফরাসি আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্য দিয়েছে। তবে প্রথমার্ধের ছন্দহীনতা ও রক্ষণে কয়েকটি সতর্কবার্তা দেশমের দলের জন্য ভাবনার জায়গা রেখে গেছে।

সেনেগালের জন্য ম্যাচটি হতাশার হলেও পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। প্রথমার্ধে তারা ফ্রান্সকে অস্বস্তিতে ফেলতে পেরেছিল এবং কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করেছিল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা, দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে জায়গা তৈরি হওয়া এবং ফ্রান্সের দ্রুত আক্রমণ সামলাতে না পারাই শেষ পর্যন্ত তাদের মূল্য দিতে বাধ্য করে।

গ্রুপ ‘আই’-এর হিসাবেও এই জয় ফ্রান্সকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেল। সামনে তাদের প্রতিপক্ষ ইরাক ও নরওয়ে। অন্যদিকে সেনেগালের জন্য পরের ম্যাচগুলো এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নকআউট পর্বের লড়াইয়ে থাকতে হলে তাদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে তাই শুধু ফ্রান্সের জয় নয়, এমবাপ্পের ইতিহাসও। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, চাপ যত বড়ই হোক, সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে। ফ্রান্স জয় দিয়ে শুরু করল, আর এমবাপ্পে শুরু করলেন আরেকটি রেকর্ড-শিকারের অভিযান।