রাশিয়ান উৎসের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নতুন করে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা-ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ছাড়ের মেয়াদ ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং আগের সীমিত ছাড়ের তুলনায় এবার নতুন আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে ১ লাখ টন দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে ১০ লাখ টন পর্যন্ত ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে দেশের চলমান জ্বালানি চাপে তাৎক্ষণিক স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্চের শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়ে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাঘাত এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি চাপের মুখে পড়েছে। সে সময় রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশ রুশ ডিজেল আমদানির জন্য অস্থায়ী ছাড় চেয়েছে এবং প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন আমদানির সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় ছিল।
জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের আমদানি-নির্ভরতা এখন সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর; ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ধাক্কা সরাসরি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৬০ দিনের ছাড় স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে শুধু তেল নয়, এলএনজি আমদানিতেও বাংলাদেশকে বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। ১৬ এপ্রিলের রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে বাংলাদেশ ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছে, যার মধ্যে ৮টি স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হবে। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরবরাহ ব্যাঘাত ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্চ-এপ্রিল সময়কালে জ্বালানি ভর্তুকি মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত ৪৫ বিলিয়ন টাকা যোগ করতে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ছাড় বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবকাশ তৈরি করেছে। তবে এটিও স্পষ্ট যে, কেবল অস্থায়ী ছাড়ের ওপর নির্ভর করে জ্বালানি নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যাবে না। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, সরবরাহপথের ঝুঁকি, স্পট মার্কেটের উচ্চমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে এখন আরও সক্রিয়ভাবে বিকল্প উৎস, আঞ্চলিক পরিশোধন সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল নিয়ে এগোতে হবে।




