বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৯ আশ্বিন, ১৪৩৩◆১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
logo
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

বিনোদন

নেইমারের প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস, ফাউলে শঙ্কা; ভিনি-ম্যাজিকে নকআউটে ব্রাজিল

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
২৫ জুন, ২০২৬ এ ১০:১৪ AM
নেইমারের প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস, ফাউলে শঙ্কা; ভিনি-ম্যাজিকে নকআউটে ব্রাজিল

নেইমারের প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস, ফাউলে শঙ্কা; ভিনি-ম্যাজিকে নকআউটে ব্রাজিল

“

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলের রাতে মাঠে ফিরলেন নেইমার, তবে ফাউলে ফের শঙ্কা।

দৈনিক শিল্পবাংলা স্পোর্টস ডেস্ক, ২৫ জুন ২০২৬

ভিনি-ম্যাজিকে গ্রুপসেরা ব্রাজিল

মায়ামির রাতটা ব্রাজিলের জন্য ছিল স্বস্তি, শক্তি দেখানো এবং ভবিষ্যতের বড় বার্তার রাত। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সি’র শীর্ষে থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা। স্কোরলাইন যেমন পরিষ্কার, মাঠের ছবিটাও ছিল তেমনই—উচ্চগতির প্রেসিং, দ্রুত আক্রমণ, আর স্কটিশ রক্ষণভাগের ভুলের নির্মম শাস্তি।

ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিল এগিয়ে যায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের দ্বিধা কাজে লাগিয়ে ব্রাজিল বল ছিনিয়ে নেয়, এরপর ভিনির সামনে সুযোগ তৈরি হলে তিনি ঠান্ডা মাথায় কাজ শেষ করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও সেই ভিনি। ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ব্রাজিলের হাতে তুলে দেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আরও একবার দেখায়, এই দল শুধু ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল নয়; আক্রমণে তাদের গতির সঙ্গে আছে সংগঠনও। ব্রুনো গিমারায়েস মাঝমাঠ ভেঙে এগিয়ে গিয়ে মাতেউস কুনিয়াকে দারুণ পাস দেন। কুনিয়া ভুল করেননি। তৃতীয় গোলের পর ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায়।

এই জয়ে ব্রাজিল ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সি’র শীর্ষে। মোরক্কোও ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে ব্রাজিল এগিয়ে। স্কটল্যান্ডের জন্য ফলটি বড় ধাক্কা; তাদের নকআউটের আশা এখন অন্য গ্রুপের ফলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে রাতটির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল দুই স্তরের—একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেতৃত্বে আক্রমণের নতুন ধার, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর নেইমারের বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরা।

তিন বছর পর সেই ‘নাম্বার টেন’

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে যখন নেইমারের নাম্বার টেন বোর্ডে উঠল, মায়ামি স্টেডিয়ামের গ্যালারি যেন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গেল। ব্রাজিলের রেকর্ড গোলদাতা প্রায় তিন বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরলেন। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন ফুটবলারের মাঠে নামা নয়; এটি ছিল এক দীর্ঘ চোট-যুদ্ধের পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে আবেগী চরিত্রের আবারও হলুদ জার্সিতে ফিরে আসা।

নেইমার খুব বেশি সময় পাননি। Sofascore-এর ম্যাচ-স্ট্যাট অনুযায়ী, তিনি ১৪ মিনিট মাঠে ছিলেন এবং ৬.৩ রেটিং পেয়েছেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তার ২৪টি টাচ ছিল, ১৩টির মধ্যে ১২টি পাস সফল হয়েছে—পাস অ্যাকুরেসি ৯২ শতাংশ। নিজের অর্ধে ৪টির ৪টি পাসই সফল, প্রতিপক্ষ অর্ধে ৯টির মধ্যে ৮টি সফল। অর্থাৎ ম্যাচের শেষ ভাগে তিনি ঝুঁকিহীনভাবে বল ধরে রাখা এবং ব্রাজিলের আক্রমণকে সংযুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন।

তবে ক্যামিওটি নিখুঁত ছিল না। একই স্ট্যাটে দেখা যাচ্ছে, নেইমার ৯ বার পজেশন হারিয়েছেন, ৪টি গ্রাউন্ড ডুয়েলের মধ্যে জিতেছেন মাত্র ১টি, দুইবার dispossessed হয়েছেন এবং দুটি unsuccessful touch ছিল। একটি ভুল থেকে স্কটল্যান্ডের শটের সুযোগও তৈরি হয়। দীর্ঘ বিরতি, ম্যাচ-ফিটনেসের ঘাটতি এবং ৩-০ এগিয়ে থাকা ম্যাচের শেষ ভাগে হঠাৎ নামার প্রেক্ষাপটে এই জড়তা অস্বাভাবিক নয়। বরং এটিকে ফেরার পথে রিদম ফিরে পাওয়ার স্বাভাবিক ধাপ হিসেবেই দেখা যায়।

ছোট সময়েও সৃষ্টিশীলতার ঝলক

নেইমারের ১৪ মিনিটের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল তার chance creation। Sofascore-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি মাত্র ১৪ মিনিটে ৩টি key pass দিয়েছেন। এত অল্প সময়ে তিনটি সুযোগ তৈরি করা কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়। তার expected assists ছিল ০.০৭; সংখ্যাটি বড় না হলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় বোঝা যায়, তিনি দ্রুত final third-এ ব্রাজিলকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করেছেন।

তিনি চারটি cross করেছেন, যার একটি সতীর্থের কাছে পৌঁছেছে। একটি shot নিয়েছেন এবং সেটি on target ছিল। shot-এর xG ছিল ০.০২, তবে xG on target দাঁড়ায় ০.১৪—মানে কঠিন জায়গা থেকে নেওয়া শটটিও গোলরক্ষককে পরীক্ষা করার মতো ছিল। বল পায়ে তিনি ছয়টি carry করেছেন, মোট ৩০.৬ মিটার বল এগিয়েছেন এবং progression ছিল ৮.৭৩ মিটার। যদিও Sofascore-এর সংজ্ঞায় এগুলো progressive carry হিসেবে ধরা হয়নি, তবু ছোট ছোট মুভমেন্টে তিনি ব্রাজিলকে সামনে ঠেলার চেষ্টা করেছেন।

এই কারণেই নেইমারের ক্যামিওকে শুধু “৯ বার পজেশন হারানো” দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। তার মধ্যে যেমন মরিচা ছিল, তেমনি ছিল পুরোনো সৃষ্টিশীলতার ইঙ্গিতও। পাসিং ছিল পরিষ্কার, key pass ছিল চোখে পড়ার মতো, আর বল পেলেই তিনি আক্রমণের গতি বদলানোর চেষ্টা করেছেন। নকআউটের আগে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফের জন্য এই ১৪ মিনিট ছিল এক ধরনের পরীক্ষাগার—নেইমার কতটা ছন্দে, কতটা ঝুঁকিমুক্ত এবং কতটা কার্যকর হতে পারেন, তার প্রাথমিক উত্তর পাওয়া গেল এই ক্যামিওতে।

ফাউলে ফের শঙ্কা

তবে নেইমারের ফেরা যতটা আনন্দের, তার শরীরী ভাষা এবং প্রতিপক্ষের আচরণ ততটাই পুরোনো শঙ্কা ফিরিয়ে এনেছে। ম্যাচের শেষ ভাগে স্কটল্যান্ডের রায়ান ক্রিস্টির বাজে ফাউলে পড়ে যান নেইমার। ওই ফাউলের পর ব্রাজিল বাম উইংয়ে ফ্রি-কিক পায় এবং রেফারি ক্রিস্টিকে হলুদ কার্ড দেখান।

ঘটনাটি হয়তো ম্যাচের ফল বদলায়নি, কিন্তু নেইমারের ক্যারিয়ার বিবেচনায় এর প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বড়। কারণ নেইমারের নামের সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে জাদুকরী ড্রিবল, গোল, অ্যাসিস্ট আর সৃজনশীলতা; তেমনি জড়িয়ে আছে ফাউল, চোট আর বারবার থেমে যাওয়ার গল্প। ব্রাজিল ও নেইমার-ভক্তদের ভয় এখানেই। তিনি যখনই মাঠে ফেরেন, প্রশ্ন থাকে—এইবার কি তিনি টানা খেলতে পারবেন? নাকি আবারও কোনো বাজে ট্যাকল, কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ তার ছন্দ ভেঙে দেবে?

স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফাউলের পর বড় কোনো চোটের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, যা ব্রাজিলের জন্য স্বস্তির। কিন্তু নকআউটের আগে এমন দৃশ্য ভক্তদের মনে পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনবেই। কারণ বিশ্বকাপে নেইমারের সঙ্গে ফাউলের সম্পর্ক শুধু একটি ম্যাচের ঘটনা নয়; এটি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম নেগেটিভ সাবপ্লট।

ফাউল, ইনজুরি আর নেইমারের অসমাপ্ত লড়াই

নেইমারের বিশ্বকাপ-গল্পে ফাউল ও ইনজুরির ছায়া নতুন নয়। বরং তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর বড় অংশই এসেছে প্রতিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জ, বাজে ফাউল এবং সেখান থেকে তৈরি হওয়া চোটের মাধ্যমে। যে খেলোয়াড় বল পায়ে রাখলেই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন, তাকে থামাতে ডিফেন্ডারদের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে শরীরী চাপ। অনেক সময় সেই চাপ বৈধ রক্ষণাত্মক সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

২০১৪ বিশ্বকাপেই সেই বাস্তবতার সবচেয়ে নির্মম ছবি দেখেছিল ব্রাজিল। কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হুয়ান কামিলো জুনিগার হাঁটুর আঘাতে নেইমারের মেরুদণ্ডের হাড়ে চিড় ধরা পড়ে। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা মুহূর্তেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের বিপর্যয় শুধু একটি ম্যাচের হার ছিল না; সেটি হয়ে ওঠে নেইমারহীন ব্রাজিলের অসহায়তার প্রতীক।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও নেইমার ছিলেন প্রতিপক্ষের প্রধান টার্গেট। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচেই তাকে ১০ বার ফাউল করা হয়—যা বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একক কোনো খেলোয়াড়ের ওপর সবচেয়ে আলোচিত ফাউল-চাপগুলোর একটি। সেই টুর্নামেন্টে নেইমারকে ঘিরে যেমন অতিরঞ্জিত পড়ে যাওয়ার সমালোচনা ছিল, তেমনি ছিল বাস্তবতাও—প্রতিপক্ষ তাকে বারবার থামিয়েছে শরীরী চ্যালেঞ্জে।

২০২২ বিশ্বকাপে আবারও একই গল্প। সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অ্যাঙ্কেল ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। গ্রুপ পর্বের পরের দুই ম্যাচ মিস করতে হয় তাকে। কিন্তু এখানেই নেইমারের চরিত্রের আরেক দিক সামনে আসে। চোট কাটিয়ে ফিরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত গোল করে ব্রাজিলকে প্রায় সেমিফাইনালের দরজায় নিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ব্রাজিল বিদায় নিলেও নেইমার দেখিয়ে দেন—ফিট থাকলে তিনি এখনও বড় মঞ্চে ম্যাচ বদলে দিতে পারেন।

এরপর ২০২৩ থেকে ২০২৬—এই সময়টাও নেইমারের জন্য ছিল দীর্ঘ পুনর্বাসন, অনিশ্চয়তা ও ফিটনেসের পরীক্ষা। হাঁটুর বড় ইনজুরি, পরের ধাপে একাধিক ফিটনেস সমস্যা এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতে কাফ ইনজুরির কারণে তিনি ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি। প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বড় মঞ্চ থেকে দূরে থাকার পর স্কটল্যান্ড ম্যাচে তার ফেরা তাই শুধু ফুটবলীয় ঘটনা নয়; এটি ছিল এক ধরনের মানসিক জয়ও।

কিন্তু ফেরার রাতেই রায়ান ক্রিস্টির বাজে ফাউল আবারও মনে করিয়ে দিল—নেইমারের ক্যারিয়ার এখনও একই সঙ্গে সম্ভাবনা ও শঙ্কার নাম। বড় চোট না লাগলেও এই ধরনের মুহূর্ত নকআউটের আগে ব্রাজিল শিবিরকে সতর্ক করবে। কারণ নেইমারকে মাঠে পাওয়া ব্রাজিলের জন্য বাড়তি শক্তি, কিন্তু তাকে ফিট রাখা এখন আরও বড় কৌশলগত দায়িত্ব।

চোটের পরও বড় মঞ্চে নেইমারের উত্তর

তবে নেইমারের গল্প কেবল চোটের নয়। বারবার আঘাতের পরও তিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অন্যতম কার্যকর পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন ব্রাজিলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। গ্রুপ পর্বে গোল, ড্রিবল, সৃজনশীলতা—সব মিলিয়ে তিনি সেই টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আশার নাম হয়ে উঠেছিলেন।

২০১৮ বিশ্বকাপে সমালোচনা ছিল, মিম ছিল, অতিরঞ্জিত পড়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল—কিন্তু একই সঙ্গে তিনি গোল করেছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন এবং ব্রাজিলের আক্রমণকে এগিয়ে নিয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ার পরও ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে তার অসাধারণ গোল ব্রাজিলকে সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ব্রাজিল বিদায় নেয়।

এই কারণেই নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিলের দ্বিধা এত গভীর। তাকে বাদ দিলে দল হয়তো আরও গতিময়, আরও তরুণ, আরও সরাসরি হতে পারে। কিন্তু তাকে পেলে ব্রাজিল পায় এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি এক পাসে, এক ড্রিবলে, এক সেট-পিসে ম্যাচের দিক বদলে দিতে পারেন।

ব্রাজিল এখন আর শুধু নেইমারনির্ভর নয়

স্কটল্যান্ড ম্যাচের সবচেয়ে বড় বার্তা এখানেই—ব্রাজিল এখন আর নেইমারের জন্য অপেক্ষা করে থাকা দল নয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এই বিশ্বকাপে নিজেকে দলের নতুন আক্রমণনেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার জোড়া গোল শুধু স্কোরলাইন বড় করেনি; দেখিয়েছে, বড় মঞ্চে তিনি ম্যাচের ভার নিজের কাঁধে নিতে প্রস্তুত।

ভিনিসিয়ুস এই টুর্নামেন্টে তিন গ্রুপ ম্যাচেই গোল করেছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪। তিনি এখন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও বড় নাম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্রাজিলের আক্রমণ এখন আর শুধু নেইমারের সৃজনশীলতার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। ভিনির গতি, প্রেসিং, ফিনিশিং এবং আত্মবিশ্বাস ব্রাজিলকে নতুন কেন্দ্র দিয়েছে।

ব্রুনো গিমারায়েস মাঝমাঠে ছন্দ দিয়েছেন, দুটি গোলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকেছেন। মাতেউস কুনিয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, ব্রাজিলের আক্রমণে বিকল্প আছে। রায়ান, ভিনি, কুনিয়া, ব্রুনো—এই নতুন ভারসাম্যের সঙ্গে নেইমার যদি ধীরে ধীরে যুক্ত হন, তাহলে নকআউটে ব্রাজিল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

কার্লো আনচেলত্তির জন্য তাই চ্যালেঞ্জটা সূক্ষ্ম। নেইমারকে কত মিনিট খেলাবেন? কোন ম্যাচে ঝুঁকি নেবেন? তাকে কি শুরু থেকে খেলানো হবে, নাকি ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী শেষ ২০-৩০ মিনিটে নামানো হবে? স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নকআউটের আগে ব্রাজিলের সুখবর ও সতর্কবার্তা

ব্রাজিলের জন্য সুখবর—দল জিতছে, ভিনি ছন্দে, কুনিয়া গোল পাচ্ছেন, ব্রুনো খেলাচ্ছেন, আর নেইমার মাঠে ফিরেছেন। Sofascore-এর ১৪ মিনিটের স্ট্যাট বলছে, নেইমারের পাসিং ও chance creation এখনও কার্যকর হতে পারে। ১২/১৩ সফল পাস, ৩ key pass, ১ shot on target—এসব নকআউটের আগে ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক সংকেত।

কিন্তু সতর্কবার্তাও পরিষ্কার—নেইমার এখনও পূর্ণ রিদমে ফেরেননি, ground duel ও possession retention-এ তাকে আরও ধারালো হতে হবে, তার শরীর এখনো সাবধানে ব্যবস্থাপনার দাবি রাখে, এবং প্রতিপক্ষ জানে তাকে আঘাত করলে ব্রাজিলের আবেগী কেন্দ্রবিন্দুতে চাপ তৈরি হয়।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ জয় তাই শুধু একটি সহজ জয় নয়। এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের উত্থান, নেইমারের প্রত্যাবর্তন, ব্রাজিলের নতুন ভারসাম্য এবং পুরোনো শঙ্কার একসঙ্গে লেখা এক রাত। নকআউটের আগে সেলেসাওরা আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু নেইমারকে ঘিরে প্রশ্ন এখনও শেষ হয়নি।

কারণ ব্রাজিলের কাছে নেইমার এখনও কেবল একজন ফুটবলার নন—তিনি সম্ভাবনা, আবেগ, স্মৃতি এবং শঙ্কার এক জটিল সমীকরণ।