মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

৫ কার্তিক, ১৪৩৩◆১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
logo
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

সাহিত্য ও সমাজ

চলে গেলেন কিংবদন্তী শিল্পী কানাই দাস বাউল

Sadman Barta
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৯:১৭ PM
চলে গেলেন কিংবদন্তী শিল্পী কানাই দাস বাউল

চলে গেলেন কিংবদন্তী শিল্পী কানাই দাস বাউল

“

কানাই দাস বাউল আর নেই। ৮২ বছর বয়সে বীরভূমের তারাপীঠে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাউল সংগীত ও আধ্যাত্মিক সাধনায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ভারতীয় বাউল সংগীতের অন্যতম সাধক-শিল্পী কানাই দাস বাউল আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মা (টিবি)-তে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

কানাই দাস বাউল ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতের এক অনন্য প্রতীক। জন্মগ্রহণ করেন গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন হলেও কখনো হার মানেননি জীবনের কাছে। বাহ্যিক দৃষ্টি না থাকলেও অন্তর্দৃষ্টিতে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন জীবন ও মানবতার গভীর সত্য।

শৈশব থেকেই সংগীত ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। পরবর্তীতে বাউল গুরুদের সংস্পর্শে এসে বেছে নেন বাউল সাধনার পথ। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে ঘুরে তিনি গেয়ে বেড়িয়েছেন মানবতার গান-“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি…”, কিংবা তারঁ কণ্ঠে ভীষণ জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’!

তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল গভীর বেদনা, তেমনি ছিল ভালোবাসা ও জীবনের দর্শন। তিনি শুধু সংগীত পরিবেশন করেননি, মানুষের ভেতরের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সারাজীবন।

দেশ-বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন কানাই দাস বাউল। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীকে।তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংগীত ও বাউল জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘কানাই বাবা’- একজন সাধক, পথপ্রদর্শক এবং আত্মার শিল্পী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কানাই দাস বাউলের প্রয়াণ অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর গান, দর্শন ও সাধনা বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

সর্বশেষ খবর

আরও দেখুন
ধর্মীয় অনুভূতি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে কেন আজও প্রাসঙ্গিক লালনের মানবদর্শন?
1

ধর্মীয় অনুভূতি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে কেন আজও প্রাসঙ্গিক লালনের মানবদর্শন?

বিশেষ ফিচার | দৈনিক শিল্পবাংলা ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ: বৈষম্য, যুদ্ধ ও জনসেবার সংকটে রাস্তায় মানুষ
2

বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ: বৈষম্য, যুদ্ধ ও জনসেবার সংকটে রাস্তায় মানুষ

বিশ্বসংবাদ | দৈনিক শিল্পবাংলা | ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য
3

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য

১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী সভায় তাঁর সভাপতিত্ব করার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণায় এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। প্রশান্তকুমার পালের রবিজীবনী এবং রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্রের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে ১৯১২ সালের ২৪ মার্চ তিনি কলকাতা ছেড়ে শিলাইদহে যান। ২৮ মার্চ শিলাইদহ থেকে জগদানন্দ রায়কে লেখা তাঁর চিঠির তথ্যও পাওয়া যায়।