বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৯ আশ্বিন, ১৪৩৩◆১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
logo
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

বিনোদন

আর্জেন্টিনার জয়ের রাতে রেকর্ডের নতুন অধ্যায় লিখলেন এলএম১০

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
১৭ জুন, ২০২৬ এ ১০:৪৬ AM
আর্জেন্টিনার জয়ের রাতে রেকর্ডের নতুন অধ্যায় লিখলেন এলএম১০

আর্জেন্টিনার জয়ের রাতে রেকর্ডের নতুন অধ্যায় লিখলেন এলএম১০

“

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের তিনটি গোলই করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে রাতটি শুধু হ্যাটট্রিকের ছিল না; এটি ছিল মেসির একঝাঁক রেকর্ডে ভরা এক স্মরণীয় প্রহর।

আর্জেন্টিনার জয়ের রাতে রেকর্ডের নতুন অধ্যায় লিখলেন এলএম১০

​স্পোর্টস ডেস্ক, দৈনিক শিল্পবাংলা

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের তিনটি গোলই করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে রাতটি শুধু হ্যাটট্রিকের ছিল না; এটি ছিল মেসির একঝাঁক রেকর্ডে ভরা এক স্মরণীয় প্রহর।

​আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বকালের বিশ্বকাপ গোল রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এতদিন ১৬ গোল নিয়ে ক্লোজে ছিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এখন সেই চূড়ায় তাঁর পাশে উঠে এসেছেন মেসি। সামনে আর মাত্র একটি গোল করলেই এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

​রাতের আরেকটি বড় অর্জন ছিল মেসির বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ রেকর্ড। ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে গোল করে ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়েছিলেন মেসি। দুই দশক পর ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৮ বছর বয়সে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার সর্ববয়স্ক বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের দখলে নিলেন। অর্থাৎ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল—দুই রেকর্ডই এখন একই নামের পাশে: লিওনেল মেসি।

​ম্যাচটি মেসির জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ। এটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলা এক ফুটবলারের জন্য এমন মাইলফলকই বড় অর্জন। কিন্তু মেসি সেটিকে শুধু অংশগ্রহণের রাতে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং গোল, নেতৃত্ব ও রেকর্ডের মাধ্যমে সেটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক স্মরণীয় সন্ধ্যায় পরিণত করেছেন।

আলজেরিয়ার সাহসী শুরু ও আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণ

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য আলজেরিয়া ভয়হীন ফুটবল খেলার ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত আক্রমণে তারা কয়েকবার আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে ফেলে। শুরুর দিকেই আলজেরিয়ার একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়, যা উত্তর আফ্রিকার দলটির আত্মবিশ্বাসী শুরু বোঝাচ্ছিল। কিন্তু সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং পরিচিত পাসিং ছন্দে ম্যাচের গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

​১৭ মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম বড় মুহূর্ত। বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী বাঁ-পায়ের শটে গোল করেন মেসি। গোলটি আর্জেন্টিনাকে শুধু এগিয়েই দেয়নি, ম্যাচের মানসিক নিয়ন্ত্রণও এনে দেয় আলবিসেলেস্তেদের হাতে। এরপর বল দখল, পজিশনাল রোটেশন ও মাঝমাঠের ছন্দে আলজেরিয়াকে ক্রমেই নিচে নামিয়ে আনে লিওনেল স্কালোনির দল।

​রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ প্রথমার্ধের মাঝামাঝি থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। মেসি কখনও নিচে নেমে বল গ্রহণ করেছেন, কখনও ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে আক্রমণের পথ খুলেছেন, আবার কখনও বক্সের আশপাশে শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ের জন্য জায়গা নিয়েছেন। বয়স ৩৮ হলেও তাঁর পজিশন সেন্স, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি আলজেরিয়ার রক্ষণকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছে।

ট্যাকটিক্যাল ট্র্যাপ ও হ্যাটট্রিক মুহূর্ত

প্রথমার্ধে আলজেরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ ধরে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা ও গেম ম্যানেজমেন্ট আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমতায় ফেরার তাড়নায় আলজেরিয়া সামনে খেলোয়াড় বাড়াতে শুরু করলে তাদের মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মাঝের জায়গা কিছুটা খোলা হতে থাকে। আর্জেন্টিনা সেই জায়গা কাজে লাগিয়ে আরও সরাসরি আক্রমণে ওঠে।

​দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। দ্রুত পাসিং মুভের পর বক্সের ভেতরে জায়গা বুঝে নিখুঁತ ফিনিশিং করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই গোলের পর ম্যাচ কার্যত আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আলজেরিয়া চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সংগঠিত ছিল এবং এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সামনে পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি তারা।

​ম্যাচের শেষ ভাগে আসে রাতের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। আরেকটি দ্রুত আক্রমণ থেকে নিজের তৃতীয় গোল করেন মেসি। তাতেই পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক, নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ৩–০ গোলের জয় এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।

​এই রেকর্ডের বিশেষত্ব এখানেই যে, মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই আসরেই তিনি আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা হন। ২০১৪ সালে ফাইনালে হারের বেদনা, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পূরণতা এবং ২০২৬ সালে এসে সর্বকালের গোল রেকর্ড স্পর্শ—এই ধারাবাহিকতা মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে আরও অনন্য করে তুলেছে।

দলীয় ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

আর্জেন্টনার জন্য ম্যাচটির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল দলের ভারসাম্য। মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ম্যাচের প্রধান গল্প হলেও, তার পেছনে ছিল স্কালোনির দলীয় কাঠামোর কার্যকারিতা। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, পাসের গতি বদল, রক্ষণে শৃঙ্খলা এবং সুযোগ বুঝে দ্রুত আক্রমণে ওঠা—সব মিলিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের প্রস্তউতির শক্ত বার্তা দিয়েছে।

​তবে উন্নতির জায়গাও আছে। ম্যাচের শুরুর দিকে আলজেরিয়ার দ্রুত আক্রমণে আর্জেন্টিনা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল। বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন সুযোগ দিলে সেটির মূল্য দিতে হতে পারে। তাই পরের ম্যাচগুলোর আগে রক্ষণ থেকে মাঝমাঠে ট্রানজিশনের সময় আরও সতর্কতা প্রয়োজন হবে।

​আলজেরিয়ার জন্য ম্যাচটি হতাশার হলেও তারা শুরুতে যে সাহস দেখিয়েছে, তা ইতিবাচক। কিন্তু শেষ তৃতীয়াংশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুর্বলতা, সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে ফাঁক তৈরি হওয়াই তাদের বড় ব্যবধানে হারতে বাধ্য করেছে।

​গ্রুপ ‘জে’-এর সমীকরণে এই জয় আর্জেন্টিনাকে শুরুতেই সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেল। সামনে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে তাদের। নকআউট পর্বে যাওয়ার পথে এই জয় শুধু পয়েন্ট টেবিলেই নয়, মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

​ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে তাই শুধু আর্জেন্টিনার জয় নয়, মেসির রেকর্ডের বিস্ফোরণ। ২০০তম ম্যাচে হ্যাটট্রিক, ক্লোজের বিশ্বকাপ গোল রেকর্ড স্পর্শ, আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ ও সর্ববয়স্ক বিশ্বকাপ গোলদাতার দুই রেকর্ড—সব মিলিয়ে কানসাস সিটির রাতটি মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে। আর সামনে মাত্র একটি গোল—যা তাঁকে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা করে তুলতে পারে।

একনজরে মেসির রেকর্ডের রাত

  • ​ম্যাচ: আর্জেন্টিনা ৩–০ আলজেরিয়া
  • ​গোল: লিওনেল মেসি (১৭', ৬০', ৭৬')
  • ​ভেন্যু: কানসাস সিটি স্টেডিয়াম, মিসৌরি
  • ​গ্রুপ: জে (J)
  • ​বিশেষ মাইলফলক: আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
  • ​বিশ্বকাপ গোল সংখ্যা: ১৬
  • ​প্রধান রেকর্ড: মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বকালের বিশ্বকাপ গোল রেকর্ড স্পর্শ
  • ​অনন্য কীর্তি: আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ ও সর্ববয়স্ক বিশ্বকাপ গোলদাতা (উভয় রেকর্ডই মেসির)

​ফিফা বিশ্বকাপের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতারা

​১. মিরোস্লাভ ক্লোজে (জার্মানি) — ১৬ গোল (অবসরপ্রাপ্ত)

২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ১৬ গোল (সক্রিয়)

৩. রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল) — ১৫ গোল (অবসরপ্রাপ্ত)

৪. গার্ড মুলার (জার্মানি) — ১৪ গোল (অবসরপ্রাপ্ত)

৫. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) — ১৪ গোল (সক্রিয়)

৬. জুস্ত ফন্তেইন (ফ্রান্স) — ১৩ গোল (অবসরপ্রাপ্ত)