৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

১৯ শা‘বান, ১৪৪৭ যুগ

শনিবার

Shilpo Bangla Logo
FacebookYouTubeTelegram

সর্বশেষ খবর

LATEST NEWS

📰আবারও হুঙ্কার থালাপতির, বললেন তাকে থামানো যাবে না

সম্পূর্ণ নিউজ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় জাবিতে সাইকেল চুরির প্রবণতা বাড়ছে"

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় জাবিতে সাইকেল চুরির প্রবণতা বাড়ছে"

সাভারশিল্পবাংলা প্রতিবেদক |প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ০৬:৪৩ PM

আজ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন কলা ভবনের সামনে থেকে এক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আন্তঃজাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫২তম আবর্তনের জান্নাতুল ফেরদৌস যুথি জানান, তালা ভেঙে তার সাইকেলটি নিয়ে যায় চোর।

 

ঘটনার পর পরই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তালা ভেঙে সাইকেল চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। তবে এখনো পর্যন্ত চোরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

যুথি দৈনিক শিল্পবাংলাকে বলেন—
“আমি ক্লাসে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে দেখি সাইকেল নেই। পরে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় একজন সাইকেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। এটা খুবই হতাশাজনক।”

 

জাবিতে সাইকেল চুরির বাড়বাড়ন্ত

 

এ ধরনের চুরির ঘটনা নতুন নয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই সাইকেল হারানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে চুরির প্রবণতা কমছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।

 

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলের সামনে থেকে একাধিক সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোরদের শনাক্ত করা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না।

 

একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“প্রশাসন সিসিটিভি বসালেও কোনো কাজে আসে না, কারণ ঘটনার পরও চোরকে শনাক্ত করতে পারছে না। প্রতিদিনই ভয় নিয়ে সাইকেল রেখে যেতে হয়।”

 

শিক্ষার্থীদের দাবি 

নিরাপত্তা জোরদার করতে ক্যাম্পাসের সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে আরও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন  সিসিটিভি লাগানো উচিৎ যাতে স্পষ্টভাবে অপরাধীদের মুখাবয়ব চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাইকেল বা মোটরসাইকেল  রাখার জন্য  অনুসদ বা বিভাগগুলোর সামনে  নির্দিষ্ট নিরাপদ জোন তৈরি করা প্রয়োজন যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। 

 


উল্লেখ্য যে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রনিক অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্যাডেল রিকশার স্বল্পতা এবং অতিরিক্ত ভাড়ার বিপরীতে  জাবির শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা হলো এই  সাইকেল। কিন্তু চুরি বেড়ে যাওয়ায় এই ভরসাই এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। 

 

“আজকে নতুন কলা ভবনের সামনে থেকে আবারও দিনদুপুরে সাইকেল চুরির ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আসলে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে, আর এই উদাসীনতার কারণই বা কী?”

মতামত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় জাবিতে সাইকেল চুরির প্রবণতা বাড়ছে" | দৈনিক শিল্পবাংলা