আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন ঘটনা বিরল। ম্যাচ শুরু হলো এক মাঠে, শেষ হলো অন্য মাঠে! বৃষ্টিতে স্যাঁতসেঁতে ও কাদাযুক্ত মাঠে ম্যাচ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কথা ভেবে ভুটানের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয় পাশের অনুশীলন মাঠে। দুই অর্ধ মিলিয়ে দুই ভিন্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি।
মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধ অনুষ্ঠিত হয় ওই মাঠেই। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয় প্রায় তিন ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে, পাশের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয়ে শীর্ষেই থাকল স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ হয়ে পড়ে কাদাময় ও খেলার অনুপযুক্ত। মাঠে বল আটকে যাচ্ছিল, খেলোয়াড়দের চলাফেরাও হচ্ছিল বিপজ্জনক। বলের গতি ছিল প্রায় শূন্য, বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন খেলোয়াড়রা।
প্রথমার্ধ শেষে একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করেন ম্যাচ কমিশনার, রেফারি ও দুই দলের প্রতিনিধি। মাঠ শুকাতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালান গ্রাউন্ডসম্যানরা, চটের বস্তা দিয়ে পানি শুষে নেওয়ার চেষ্টা চলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই দলই খেলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সিদ্ধান্ত হয় ম্যাচ স্থানান্তরের।
দ্বিতীয়ার্ধ হয় কিংস অ্যারেনার পাশের অনুশীলন মাঠে, যেখানে স্ট্যান্ড না থাকায় দর্শকরা দাঁড়িয়ে খেলাটি উপভোগ করেন, সাংবাদিকদের জন্যও ছিল না কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ম্যাচটি শেষ করে বিজয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে এদিন দুর্দান্ত পারফর্ম করেন শান্তি মারডি। হ্যাটট্রিক করে দলকে এনে দেন দারুণ জয়। বাকি একটি গোল করেন মুনকি আক্তার। ভুটানের একমাত্র গোলটি করেন সানগাই ওয়াংমো।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। শান্তি মারডির গোলেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ (৭ মিনিটে)। তবে মাঠের অবস্থার কারণে প্রথমার্ধে খেলায় ছিল বিশৃঙ্খলা, তবু গোলের ব্যবধান ছিল ১-০।
দ্বিতীয়ার্ধে ভুটান সমতায় ফেরে ৫৩ মিনিটে। কিন্তু এরপর আবার ছন্দ ফিরে পায় বাংলাদেশ। ৬০, ৭৬ ও ৭৯ মিনিটে টানা তিন গোল, যার মধ্যে দুটিই করেন শান্তি। হ্যাটট্রিক করে তিনি তুলে নেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতি।
এই ব্যতিক্রমী ঘটনা নিয়ে বাফুফে কিংবা সাফ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। এমনকি ম্যাচশেষে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটিও হয়নি। চোটের শঙ্কা, খেলার অনুপযুক্ত পরিবেশ, দর্শকদের নিরাপত্তা- সবই উপেক্ষিত থেকে গেছে।
এই ম্যাচে কোচ পিটার বাটলার একাদশে এনেছেন অনেক পরিবর্তন। আগের ম্যাচের প্রথম একাদশ থেকে শুধু শান্তি মারডি ও বন্যা খাতুন ছিলেন মূল একাদশে। গোলরক্ষক স্বর্ণা রানীর পরিবর্তে সুযোগ পান মিলি আক্তার। অধিনায়কের ভূমিকায় আফঈদা খন্দকারের জায়গায় দায়িত্ব পান সুরমা জান্নাত।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মাঠ বদলের ঘটনা যেমন প্রশ্ন তুলেছে টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনার ওপর, তেমনি মাঠে আবারও প্রমাণ দিয়েছে- সব প্রতিকূলতাকে জয় করেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা।