সম্পূর্ণ নিউজ

প্রতীকী ছবি
হাদিসে বলা ‘খুনাখুনির যুগ’ কী শুরু হয়ে গেছে?
বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে অহেতুক খুনাখুনির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, গুজব, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এমনকি পারিবারিক কলহেও প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। অনেকে মনে করছেন, বিশ্ব হয়তো প্রবেশ করে ফেলেছে সেই যুগে, যার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হাদিসে এই সময়কে বলা হয়েছে- ‘জামানাতুল কাতল’ বা ‘খুনাখুনির যুগ।’
এই যুগ সম্পর্কে এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, 'হত্যাকারী জানবে না সে কেন হত্যা করছে, আর নিহত জানবে না সে কেন নিহত হলো।' সহীহ মুসলিম: ২৯০৮
হাদিসে শেষ জামানা ও কেয়ামতের আগের মুহূর্ত নিয়ে এমন বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। এই সময়ের অনেক কাজ ও আলামত সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতে মুহাম্মাদিকে সতর্ক করেছেন। এমন একটি আলামত হলো অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়া। এই সময়টিকে খুনাখুনি বা হত্যার যুগ বলা হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন। দুনিয়া ধ্বংস হবে না যে পর্যন্ত না মানুষের কাছে এমন এক যুগ আসে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে কী দোষে সে অন্যকে হত্যা করেছে এবং নিহত লোকও জানবে না যে কী দোষে তাকে হত্যা করা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করা হলো, কীভাবে এমন অত্যাচার হবে? তিনি জবাবে বলেন, সে যুগটা হবে হত্যার যুগ। এরূপ যুগের হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামি হবে।’ -সহিহ মুসলিম: ৭১৯৬
অন্য হাদিসে হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ‘হারজ’ হবে। রাবী (হাদিস বর্ণনাকারী) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! ‘হারজ’ কী? তিনি বলেন, ব্যাপক গণহত্যা।
কোনো কোনো মুসলমান বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যে এই এক বছরে এত মুশরিককে হত্যা করলাম। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তা মুশরিকদের হত্যা করা নয়, বরং তোমরা পরস্পরকে হত্যা করবে; এমনকি কোনো ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে, চাচাতো ভাইকে এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনকে পর্যন্ত হত্যা করবে।
কেউ কেউ বললো, হে আল্লাহর রাসুল, তখন কি আমাদের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাবে? হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অধিকাংশ লোকের জ্ঞান লোপ পাবে এবং অবশিষ্ট থাকবে নির্বোধ ও মুর্খরা।
এরপর আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি ধারণা করেছিলাম, হয়তো এ যুগ তোমাদেরকে ও আমাকে পেত, তাহলে তা থেকে আমার ও তোমাদের বের হয়ে আসা মুশকিল হয়ে যেত, যেমন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, আমরা ওই অনাচারে যত সহজে জড়িয়ে পড়ব তা থেকে আমাদের নিস্তার ততোধিক দুষ্কর হবে। -সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৯৫৯
আরেক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের আগে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, ভূমিকম্প বেশি হবে, সময় সংকীর্ণ হয়ে যাবে, ফেতনা প্রকাশ হবে, হত্যাকাণ্ড-খুনখারাবি বেড়ে যাবে, সম্পদের আধিক্য হবে।’ -সহিহ বোখারি: ১০৩৬
বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হচ্ছে বিভিন্ন সংঘর্ষে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিরোধে ব্যাপক রক্তপাত ঘটেছে। অনেক সময় দেখা যায়, নিহতদের কোনো সংশ্লিষ্টতাও ছিল না—তারা শুধুই সহিংসতার শিকার।
ইসলামে অকারণে মানুষ হত্যা চরম গোনাহ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার সমান।' সূরা মায়েদা: ৩২
রাসূল (সা.) বলেছেন, ফিতনার সময় ঘরে অবস্থান করাই উত্তম। তিরমিজি: ২১৯৪
.jpg&w=3840&q=75)
লা ইলাহা ইল্লালাহুল মালিকুল হাক্কুল মুবিন: অর্থ, ঐশ্বরিক গুণাবলী এবং গভীর ফজিলত
২৮ জুল
ওয়াকফ এস্টেটগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা
২৬ জুল
ইসলামে অপবাদের শাস্তি ভয়ংকর
১৩ জুল
মব সহিংসতা ও গণপিটুনি ইসলামে নিষিদ্ধ
১৩ জুল
হাদিসে বলা ‘খুনাখুনির যুগ’ কী শুরু হয়ে গেছে?
১৩ জুল
