৪ মার্চ, ২০২৬

৪ মার্চ, ২০২৬

১৫ রমজান, ১৪৪৭ যুগ

বুধবার

Shilpo Bangla Logo
FacebookYouTubeTelegram

সর্বশেষ খবর

LATEST NEWS

📰আমরা সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী: জামায়াত আমির

সম্পূর্ণ নিউজ

৭৫ শতাংশই অর্থপাচার ঘটে মিথ্যা আমদানি-রপ্তানির আড়ালে : বিআইবিএম

বিআইবিএম-এর গোলটেবিল আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

৭৫ শতাংশই অর্থপাচার ঘটে মিথ্যা আমদানি-রপ্তানির আড়ালে : বিআইবিএম

অর্থ-বাণিজ্যশিল্পবাংলা ডেস্ক |প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ এ ০৮:১১ PM

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশই মিথ্যা আমদানি-রপ্তানির ঘোষণা দিয়ে পাচার হয়-এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর এক গবেষণায়। 

 

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এই গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়।

 

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের পর ৯৫টি অর্থপাচারের ঘটনা চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এই সব ঘটনাই ছিল বাণিজ্যের মাধ্যমে করা, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

 

বিআইবিএমের তিন শিক্ষক, বেসরকারি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক কর্মকর্তা মিলে ৩৭টি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশ্নোত্তরের তথ্য দিয়ে গবেষণাপত্রটি তৈরি করা হয়।

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের শিক্ষক আহসান হাবিব।

 

তিনি বলেন, ‘অর্থ পাচারে অপরাধীরা বাণিজ্য চ্যানেলটি ব্যবহার করে, তার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাণিজ্যর মাধ্যমে বড় পরিমাণের অর্থ নেওয়া যায়। অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বাণিজ্যের মাধ্যমে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হয়। ফলে এই মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানোর আগ্রহ বেশি থাকে।’

 

আহসান হাবিব আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমদানি ও রপ্তানির সময় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমান। আর গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার-জিডিপির ৩.৪ শতাংশ। মূলত বস্ত্র, ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি এই পাচারের মূল খাত।

 

গবেষণায় প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, দেশে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সুরক্ষাকাঠামোতে দুর্বলতা আছে, যা এই পাচারের অন্যতম কারণ। জরিপে অংশ নেওয়া শতভাগ ব্যাংক জানায়, নিষেধাজ্ঞা তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাইয়ের সক্ষমতা রয়েছে। ৯৫ শতাংশ ব্যাংকের রয়েছে সনাতনি তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। ১০০ শতাংশ ব্যাংকের লেনদেনের নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি মূল্য যাচাইয়ের তথ্যভাণ্ডারে সুবিধা নিতে পারে ৫০ শতাংশ ব্যাংক। 

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার বলেন, ‘কম দাম দেখিয়ে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমেও অর্থ পাচার হয়; এটাও বাণিজ্য অর্থায়নের মধ্যে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাণিজ্য এমনভাবে করা হয় যে বাইরের দৃষ্টিতে সব ঠিকঠাক মনে হয়। তবে ভেতরে অন্য কিছু লুকানো থাকে। অনেক সময় চোখে ধুলা দেওয়ার মতো অবস্থা হয়। বলা হয় এক কথা, আসলে ভেতরে অন্য কিছু চলছে। তাই ভালোভাবে দেখা জরুরি।’

 

তিনি আরও বলেন, 'শুধু নিয়ম মানলেই পাচারকারীদের ধরা যায় না। এদের ধরতে বুদ্ধি খাটাতে হবে, সতর্কতা বাড়াতে হবে। বাণিজ্যকে দেখলে অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু ভেতরে থাকে গোপন কৌশল।' 

 

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএমের এ কে গঙ্গোপাধ্যায় চেয়ার অধ্যাপক ফারুক এম আহমেদ, বিআইবিএমের মহাপরিচালক আবদুল হাকিম, বিআইবিএমের শিক্ষক আলী হোসেইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এ কে এম রেজাউল করিম, বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইউ) পরিচালক মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ।

আমদানি-রপ্তানিঅর্থঅর্থনীতিঅর্থপাচারবাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টবিআইবিএমগবেষণাগোলটেবিল আলোচনাজাতীয় রাজস্ব বোর্ডএনবিআরশুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর