৩১শে আগস্ট, ২০২৫

১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২

৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭

রবিবার

Shilpo Bangla Logo
FacebookYouTubeTelegram

সর্বশেষ খবর

LATEST NEWS

📰জাকসু নির্বাচন: ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা

সম্পূর্ণ নিউজ

পর্নোগ্রাফি ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জাপানি তারকা

নূরে ইস্তেকবাল। ছবি: সংগৃহীত

পর্নোগ্রাফি ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জাপানি তারকা

শিল্পবাংলা ডেস্ক,প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৫ এ ২২:১৭

আলোচিত, সমালোচিত আর প্রলোভনে ভরা এক শিল্প ছিল তার পেশা—জাপানের প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র (পর্নোগ্রাফি) জগতে রায়ে লিল ছিলেন পরিচিত একটি নাম। তবে যার আসল নাম কায়ে আসাকুরা। কিন্তু এখন সেই পরিচয়ও বদলে গেছে। এখন তিনি নূরে ইস্তেকবাল। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ভ্রমণের পর নীল ছবির জগতের ক্যারিয়ার ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শুরু করেছেন জীবনের এক নতুন অধ্যায়। আর এই সিদ্ধান্ত কেবল পেশা বা ধর্ম পরিবর্তনের নয়, বরং আত্মা খোঁজার এক গভীর যাত্রার প্রতিচ্ছবি।

 

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তারকাদের ইসলাম গ্রহণের গল্প নতুন নয়। কেউ যুদ্ধের বিভীষিকায়, কেউবা আত্মশুদ্ধির সন্ধানে এসে ধর্মের আলোর স্পর্শ পান। রায়ে লিলও তেমনই এক ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে খুঁজে পেয়েছেন মানসিক প্রশান্তির সন্ধান।


লিল জানান, ‘বহু যশ, খ্যাতি ছিল—তবুও ভেতরে শান্তি ছিল না।’ জীবনের এই অন্তঃস্থ শূন্যতা থেকেই ২০২৪ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। নতুন নাম রাখেন নূরে ইস্তেকবাল, যার অর্থ ভবিষ্যতের আলো। নামেই যেন তার আত্মপরিচয়ের নতুন গল্প লেখা হয়ে গেল।

 

ধর্ম গ্রহণের পর তার জীবনদর্শন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—আর কখনও পর্নোফিল্মে অভিনয় করবেন না। তার ভাষায়, ‘এখন আমি এমন পথ বেছে নিয়েছি যেখানে আত্মার শান্তি আছে, সম্মান আছে, দায়িত্ব আছে।’

 

জানা যায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মালয়েশিয়া ভ্রমণে যান মূলত অবকাশ যাপনের জন্য। সেখানে এক মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ হলে তার জীবনে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পুত্রজায়ার একটি মসজিদে প্রবেশের মুহূর্তটি তার মনে গভীরভাবে দাগ কাটে এবং ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে জাপানে ফিরে এসে তিনি ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা শুরু করেন, কোরআনের অনুবাদ পড়েন এবং ইসলামিক স্কলারদের বক্তৃতা শোনেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে, টোকিওর একটি ইসলামিক সেন্টারে যাওয়ার সময়, হিজাব পরিহিত একটি ভিডিও শেয়ার করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

 

 

২০২৫ সালের শুরুর দিকে, তিনি তার পরিবারের বাড়িতে নামাজের জন্য একটি বিশেষ স্থান গড়ে তোলার ছবি শেয়ার করেন, যা তার নতুন জীবনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রমাণ। বর্তমানে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অন্যদের অনুপ্রাণিত করছেন, দেখাচ্ছেন যে প্রকৃত আত্মিক পরিবর্তন যেকোনো মানুষের জীবনেই আসতে পারে।

 

তার এই যাত্রা বিশ্বাস ও আত্মিক পরিবর্তনের শক্তির প্রতীক, যা প্রমাণ করে যে অতীত যেমনই হোক না কেন, শান্তি ও জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যের পথে ফিরে আসার জন্য সবসময় এক নতুন দরজা খোলা থাকে।

 


তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তকে অনেকেই সমর্থন করেছেন। তবে কিছু মানুষ বিশেষত তার পূর্ববর্তী ক্যারিয়ারের কারণে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সমালোচনার মুখেও তিনি দৃঢ় থাকেন এবং স্পষ্টভাবে জানান যে, তার বিশ্বাস এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয়, অন্যদের এ নিয়ে বিচার করার কোনো অধিকার নেই।

 

নূরের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কেউ কেউ কটাক্ষ করছেন—যেন এটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার নতুন কৌশল মাত্র। কিন্তু তীব্র ভাষায় জবাব দিয়েছেন তিনি, ‘আমি জান্নাতে যাব কি না, আমার পাপ ক্ষমাযোগ্য কি না, তা জানার দায় আপনাদের নয়। আমি আমার রবের সঙ্গে আছি, আপনারা আপনাদের নিয়ে থাকুন।’

 

এই বক্তব্যে উঠে আসে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকা আর সমাজের কটাক্ষ অগ্রাহ্য করার সাহস।

 

এছাড়াও পবিত্র মাহে রমজান শুরুর আগে থেকেই রে লিল ব্ল্যাক তার পূর্বের সমস্ত আপত্তিকর কনটেন্ট স্যোশাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলেছেন।  তিনি স্পষ্টভাবে জানানও যে, তার নাম ব্যবহার করে প্রকাশিত কোনো নতুন প্রাপ্তবয়স্ক ভিডিও প্রকাশ পেলে জানবেন তা ইসলাম গ্রহণের আগের সময়ের রেকর্ডিং।

 

এছাড়া গত রমজানের প্রথম দিন ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আশা করি, আমরা সবাই এই পুরো মাস আল্লাহর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করব এবং আমাদের প্রিয়জন, পরিবার, ভাই ও বোনদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাব। আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। আল্লাহ আমাকে এবং তোমাদের সবাইকে এই মাস সফলভাবে পার করার শক্তি দান করুন। রমজান মোবারক।’

জাপানরায়ে লিলকায়ে আসাকুরাইসলামধর্মনূরে ইস্তেকবালমালয়েশিয়াপুত্রজায়া