সর্বশেষ খবর
LATEST NEWS
📰আশুলিয়ায় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য গ্রেফতার
সম্পূর্ণ নিউজ
শিক্ষা ও ধর্ম উপদেষ্টার সাথে কওমি নেতাদের সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
দাওরায়ে হাদিসের সনদের কার্যকারিতা, উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ দেওয়ার দাবিতে কওমি নেতাদের শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ
দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল- যা মাস্টার্স সমমান) স্বীকৃত সনদের কার্যকারিতা ও উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ বোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর নেতারা। একই সঙ্গে তারা কওমি মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন ডিগ্রি পাস করা শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কওমি শিক্ষক নেতারা।
রবিবার (২০ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। এসময় সেখানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃত সনদের কার্যকারিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশসেবা ও উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার সহযোগিতা কামনা করছি।
তারা সরকারের সব মন্ত্রণালয়সহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সনদের মান কার্যকর করার জন্য সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধও জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইসলামি গবেষণা কেন্দ্রসমূহে নিয়োগ, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মসজিদের ইমাম-খতিব পদে নিয়োগসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে কওমি মাদরাসার সনদধারীদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রতিনিধিদলের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, 'কওমি মাদ্রাসার সনদপ্রাপ্ত আলেমরা সৎ ও দেশপ্রেমিক। তাদের দেশ ও জাতির সেবার সুযোগ দেওয়া হলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।'
তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থায় কওমি মাদ্রাসার সনদধারীদের নিয়োগের বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবনাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। এই সাক্ষাৎ কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি এবং এর মাধ্যমে কওমি আলেমদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংস্থাটির মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক, অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু: অছিউর রহমান, শিবচর দারুস সুন্নাহ মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ ফরিদী, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাসচিব আরশাদ রহমানী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা আব্দুল বছীর ও মুফতি মোহাম্মদ আলী।
জানা যায়, প্রতিনিধিদল ধর্ম উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপদেষ্টাদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান লিখিত আবেদন দেন, যেখানে সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে কওমি শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানানো হয়।
সংস্থাটি সেদিনই তাদের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আল্লামা মাহমুদুল হাসান তার পত্রে বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদেরকে দেশসেবায় চাকরির সুযোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন জানান। ক্ষেত্রগুলো হলো-
ক) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষক পদে নিয়োগদান।
খ) ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগদান।
গ) মডেল মসজিদসহ সরকারি মসজিদ এবং সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের মসজিদের ইমাম ও খতিব পদে নিয়োগদান।
ঘ) সামরিক, আধাসামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগদান।
ঙ) জেলখানার ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগদান।
চ) মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) পদে নিয়োগদান।
পত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদানের জন্য আল্লামা মাহমুদুল হাসান দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি’ বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি করার এবং ‘ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি’ ব্যতীত অন্য যে কোনো বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ দানের জোর আবেদন জানান।
এর আগে গত ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ প্রকাশ করা হয়। নীতিমালার ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বেতনস্কেল’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাশ করা প্রার্থীদের ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (ক্বারী/নুরানি)) পদে আবেদনের যোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ মে সংস্থাটির কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে ‘দাওরায়ে হাদীস সনদ কার্যকরকরণ-সংক্রান্ত সাবকমিটি’র নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) ১৯৯৭ সালে কওমি মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতির দাবি প্রথম তোলে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি করার পরে যখন কোন সরকারই তাদের গুরুত্ব দিচ্ছিলো না তখন ২০০৬ সালে ঢাকার মুক্তাঙ্গণে অনশন কর্মসূচি পালন করেন তৎকালীন জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই বছরের আগস্টের শেষ দিকে গণভবনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের উপস্থিতিতে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান ঘোষণা করেন। পরে তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ওই সময় বিএনপি আর গেজেট করে যেতে পারেনি বলে প্রক্রিয়াটি থেমে যায়। পরে ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মুফতি রুহুল আমীনসহ বিভিন্ন আলেমরা সভা-সেমিনারের মধ্যদিয়ে আবারও দাওরায়ে হাদিসের সরকারি স্বীকৃতির দাবি তোলেন।
পরে নানা সময়ে বিভিন্ন আলোচনা-কর্মসূচি শেষে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদের সরকারি স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। এরপর ১৩ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শাখা-১) থেকে এ স্বীকৃতির গেজেট প্রকাশিত হয়। আর বাংলাদেশ গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর।
গেজেটে বলা হয়— কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট বজায় রেখে ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি ধরে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান করা হলো।
এই কারণে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিআাতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে সংস্থাটির সদস্য, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গওহরডাঙ্গার তৎকালীন চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন (যিনি এরপরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হয়েছিলেন) কওমি আলেমদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেন।
শোকরানা মাহফিলে মুফতি রুহুল আমিন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি ‘কওমি জননী’। আপনি না থাকলে সাহাবা ও আলেম-ওলামাবিরোধী জামায়াত-মওদুদীবাদীরা এটা হতে দিতো না।'
মাহফিলে কওমি আলেমদের সহযোগিতা চেয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ বলেন, 'আপনাদের একজন প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী কওমি জননী হলে আপনারা কী? সন্তান। আপনারা সন্তান হলে সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি জননীর প্রতিও সন্তানদের দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা চাই।'
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
যদিও এ স্বীকৃতির গেজেট প্রকাশিত হলেও চাকুরির বাজারে এর আশানুরূপ কার্যকারিতা দেখা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গোপালগঞ্জের জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম খাদেমুল ইসলাম গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি মোহাম্মদ তাসনীম হতাশার সাথে বলেন, ‘আগে জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত লেখা হতো, এখন সেখানে স্নাতকোত্তর লেখা হয়, এটাই প্রাপ্তি।’
ফলে দীর্ঘদিন ধরেই আলেমসমাজ কওমি সনদের বাস্তব ও বিস্তৃত প্রয়োগ চেয়ে আসছিল। তারা বিভিন্ন সময় দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক পদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, সরকারি মসজিদে ইমাম ও খতিব নিয়োগ, সশস্ত্র বাহিনী ও কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক পদ এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) পদে নিয়োগের দাবিও জানিয়ে আসছেন।
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষার খাতা দেখছেন নিরাপত্তা প্রহরী
শিক্ষা
গুচ্ছের ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিভাগ পরিবর্তনের চূড়ান্ত নির্দেশনা
শিক্ষা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১ মাসের আলটিমেটাম এমপিও শিক্ষকদের
শিক্ষা
ঢাকা বোর্ডে নতুন জিপিএ-৫ পেল ২৮৬, ফেল থেকে পাস ২৯৩
শিক্ষা
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ আজ
শিক্ষা
ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির অভিযোগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন আটক
শিক্ষা
অধ্যাদেশের দাবিতে সড়কে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা
শিক্ষা
বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা
এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হতে পারে ১০ আগস্ট
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নতুন সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক’ এর আত্মপ্রকাশ