সর্বশেষ খবর
LATEST NEWS
📰আশুলিয়ায় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য গ্রেফতার
সম্পূর্ণ নিউজ
ফাইল ছবি
বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না বলে বিবৃতি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যে বৈষম্যমূলক নয়, সে বিষয়েও কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব বলা হয়। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা—বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী সকল শিশুর জন্যই উন্মুক্ত বলেও জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা’ বৈষম্যমূলক—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ, মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বক্তব্যের প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই একটি, শুধু পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা’।
বাংলাদেশের শিক্ষা জরিপগুলোতে দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত পরিবারের। পক্ষান্তরে, কিন্ডারগার্টেনে অধ্যয়নরত বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা’ এই নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে একটি আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।
কিন্ডারগার্টেনসমূহ তাদের অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শুধু কিন্ডারগার্টেনসমূহের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ‘কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন বৃত্তি পরীক্ষা’ চালু রেখেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। এজন্য সেসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষা চালু করার দাবি উত্থাপিত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭(ক) অনুচ্ছেদ এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী সকল শিশুর অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ নীতি কার্যকর নেই। যারা নিজেদের সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ান, তারা স্বেচ্ছায় তা করেন। এসব বিবেচনায় ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা’ বৈষম্যমূলক—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা, বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী সকল শিশুর জন্যই উন্মুক্ত।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের আগে পৃথকভাবে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। পঞ্চম শ্রেণির বাছাই করা শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেত। কিন্তু সেটি বাদ দিয়ে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা। এতে বৃত্তি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারত সব শিক্ষার্থীই। ২০২২ সালে বছরের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে আকস্মিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষা নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ফল প্রকাশে ভুল হওয়ায় তখন তা ব্যাপক সমালোচিত হয়। এরপরে আবার ২০২৩ সালেও বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিও শেষমেশ তা আর হয়নি। তবে এখন আবার বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে পৃথকভাবে এ বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
গত ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (সাধারণ প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ এবং পরীক্ষার বিষয়সমূহ সম্পর্কে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর। পরীক্ষাটি নেওয়া হবে চার বিষয়ে—বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান (এই দুটি বিষয় একত্রে ধরা হবে)। প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণমান থাকবে ১০০ এবং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ হলো—সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে 'সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের' উল্লেখ্য থাকায় কিন্ডারগার্টেন বা অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবার এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
প্রসঙ্গত, এই বিজ্ঞপ্তির পরেই সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বুধবার (৩০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৭ জুলাইয়ের উল্লেখিত পরিপত্রের মাধ্যমে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনের মহাসচিব রেজাউল হক বলেন, 'কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর প্রতি চরম বৈষম্য করা হচ্ছে, যা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।'
রেজাউল হক আরও বলেন, ‘দেশে ৫০ হাজারের বেশি কিন্ডারগার্টেন প্রায় ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রসার লাভে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলছে। এ অবস্থায় দেশের একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়। এটা অন্য শিক্ষার্থীদের হতাশ করা ও তাদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’
এছাড়াও সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির বিভিন্ন শাখা এই দাবিতে মানববন্ধন করেছে।
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষার খাতা দেখছেন নিরাপত্তা প্রহরী
শিক্ষা
গুচ্ছের ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিভাগ পরিবর্তনের চূড়ান্ত নির্দেশনা
শিক্ষা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ১ মাসের আলটিমেটাম এমপিও শিক্ষকদের
শিক্ষা
ঢাকা বোর্ডে নতুন জিপিএ-৫ পেল ২৮৬, ফেল থেকে পাস ২৯৩
শিক্ষা
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ আজ
শিক্ষা
ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির অভিযোগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন আটক
শিক্ষা
অধ্যাদেশের দাবিতে সড়কে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা
শিক্ষা
বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা
এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হতে পারে ১০ আগস্ট
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নতুন সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক’ এর আত্মপ্রকাশ